খেলাধূলা ডেস্ক
চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে গোলবন্যার দেখা মিলেছে। দুই দলের লড়াইয়ে মোট দশটি গোলের সাক্ষী হয়েছে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শক। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল করে ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম বিশ্বকাপের এক আসরে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ৩টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ইংল্যান্ডের জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেন বেলিংহাম। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন এই ২৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। মাঠে নামার পর থেকেই তিনি দলের আক্রমণভাগে গতি সঞ্চার করেন। ম্যাচের অন্তিম সময়ে ফ্রান্স যখন ব্যবধান কমানোর আশায় মরিয়া হয়ে আক্রমণ সাজাচ্ছিল, ঠিক তখনই বেলিংহামের গোলে ব্যবধান বেড়ে যায় এবং ফ্রান্সের ম্যাচে ফেরার সব আশা শেষ হয়ে যায়।
এই গোলের মাধ্যমে বেলিংহাম চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতটিতে উন্নীত করলেন। এর আগে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ ছয়টি করে গোল করার রেকর্ড ছিল কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার এবং অধিনায়ক হ্যারি কেইনের। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে লিনেকার প্রথম এই কীর্তি গড়েন। এরপর চলতি বিশ্বকাপের প্রাথমিক ও নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো থেকে কেইন ও বেলিংহাম ৬টি করে গোল করে সেই রেকর্ডের অংশীদার হন।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল হ্যারি কেইনকে মূল একাদশে রাখেননি এবং শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠেও নামানো হয়নি। ফলে নিজের নামের পাশে আর গোল যোগ করার সুযোগ পাননি কেইন। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বেলিংহাম ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করে লিনেকার ও কেইনের ৬ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে এককভাবে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন।
ম্যাচটিতে দুই দলের রক্ষণভাগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। নির্ধারিত সময়ের খেলা শুরুর পর থেকেই উভয় দল একে অপরের সীমানায় আক্রমণ বজায় রাখে। প্রথমার্ধ থেকেই গোলের ধারা অব্যাহত ছিল। ইংল্যান্ডের হয়ে এই ম্যাচে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় স্কোরশিটে নাম তুলেছেন, তবে ম্যাচের শেষভাগে বেলিংহামের গোলটিই তাকে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বেলিংহামের এই পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রমাণ। বিশেষ করে মাঝমাঠের খেলোয়াড় হয়েও বিশ্বকাপে গোল করার এমন ধারাবাহিকতা ও রেকর্ড গড়া তার ক্যারিয়ারের বড় অর্জন। অন্যদিকে, ফ্রান্স এই হারে চতুর্থ স্থান নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করলেও তাদের তরুণ খেলোয়াড়দের লড়াই করার মানসিকতা প্রশংসিত হয়েছে।
বিশ্বকাপের এবারের আসরে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স ছিল বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। সেমিফাইনালে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এই জয় এবং বেলিংহামের ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়া ব্রিটিশ ফুটবল সমর্থকদের জন্য তৃপ্তিদায়ক একটি বিষয়। টুর্নামেন্ট জুড়ে বেলিংহামের এমন ফর্ম ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ইংল্যান্ডের জন্য বড় আশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ হ্যারি কেইনের রেকর্ড অক্ষুণ্ণ থাকার সম্ভাবনা থাকলেও বেলিংহামের নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোয় ইংলিশ ফুটবলে নতুন প্রজন্মের উত্থান আরও স্পষ্ট হলো।