অপরাধ ডেস্ক
প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি। বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এক হাজার টাকা মুচলেকায় চিত্রনায়িকা ববির জামিন আদেশ দেন। আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১২ জুলাই রাজধানীর গুলশান থানায় ইটুই সলিউশনস লিমিটেড-এর সিনিয়র ম্যানেজার মেহেদি আলম প্রিন্স বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় চিত্রনায়িকা ববিসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিরা হলেন—বিটিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মির্জা আবুল বাশার, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল আহাদ মিয়া এবং অ্যাডমিন সোহেল রানা।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, গত বছরের ১২ নভেম্বর বিটিএল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আবুল বাশার তাদের কোম্পানির জন্য লিথিয়াম আয়রন ব্যাটারি সরবরাহের অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে গত ২০ নভেম্বর বাদী মেহেদি আলম প্রিন্স গুলশানে অবস্থিত বিটিএল অফিসে পাঁচটি ৬৪ ভোল্টের ১৭০ অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি সরবরাহ করেন। সরবরাহকৃত ওই ব্যাটারির মোট মূল্য ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্যাটারি সরবরাহের পর নিয়ম অনুযায়ী মূল্য পরিশোধের কথা থাকলেও বিটিএল কর্তৃপক্ষ তা করেনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করে তারা গড়িমসি শুরু করেন। পরবর্তীতে গত ১১ জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে বাদী নিজে বিটিএল অফিসে গিয়ে পাওনা টাকা দাবি করেন। এ সময় বিটিএল কর্তৃপক্ষ তাকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়। বাদী এজাহারে দাবি করেন, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাটারি সরবরাহের ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এদিকে, মামলার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর আজ বুধবার চিত্রনায়িকা ববি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। জামিন আদেশের পর তার আইনজীবীরা জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মামলার এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্তকারী সংস্থা বিটিএল অফিসের নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড পর্যালোচনা করবে। জামিন পাওয়ার মাধ্যমে আসামি পক্ষ আপাতত আইনি সুরক্ষায় থাকলেও, মামলার তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হলে মামলার পরবর্তী আইনি গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ হবে।
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং পুলিশ আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চালাচ্ছে। আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়া এই মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে চিত্রনায়িকা ববির নাম আসার ফলে গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে মামলার তদন্তে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য বিচার বিভাগীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।