অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের আবাসন খাতের উন্নয়ন, ভূমিকম্প সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নগর পরিকল্পনায় সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ, জাতীয় বিল্ডিং কোডের যথাযথ প্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতকরণ। ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের চাপে থাকা বাংলাদেশে মানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংশ্লিষ্টরা।
সাক্ষাৎকালে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বাংলাদেশে ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, টেকসই অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার ওপর জোর দিচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত ‘বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সেফটি অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী এই ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কামনা করেন। এর বিপরীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানটি গঠনে মার্কিন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের আবাসন ও নির্মাণ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের হাউজিং ও নির্মাণ অবকাঠামোর আধুনিকায়নে বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে, পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন এবং পাবলিক প্লেস ও পার্কের মতো নাগরিক সুবিধাসমূহ আধুনিকায়নে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া, জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুসরণের মাধ্যমে দুর্যোগ সহনশীল ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত পোষণ করে। আবাসন খাতে স্বচ্ছতা এবং মান নিশ্চিতকরণে সরকারি পর্যায়ে যে কাজগুলো চলমান রয়েছে, তা আরও গতিশীল করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সচিব মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন, যুগ্ম সচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, যার সঙ্গে ছিলেন পলিটিক্যাল কাউন্সিলর এরিক গিলান, পলিটিক্যাল অফিসার জশ পোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক ডিপ্লোমেসি সেকশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণ এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গৃহায়ণ খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ যদি বাস্তব রূপ পায়, তবে তা দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে, ভূমিকম্প ঝুঁকির মুখে থাকা বাংলাদেশের জন্য আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই বৈঠকটি মূলত দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক খাতে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এ ধরনের আলোচনা মাঠ পর্যায়ে যথাযথ বাস্তবায়িত হলে আবাসন ও নগর উন্নয়নে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
আপনি কি এই বিষয়ে আরও কোনো বিস্তারিত তথ্য বা অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী?