শিক্ষা ডেস্ক
ভারী বর্ষণ ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এছাড়া, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ভুল প্রশ্ন প্রণয়নের দায় স্বীকার করে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সারা দেশে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। তবে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় চলমান পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী তার বিবৃতিতে আরও জানান, শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চল নয়, বরং দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিকূল আবহাওয়া ও বন্যার কারণে বিচ্ছিন্নভাবে অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেনি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপে কোনো ধরনের বিপর্যয় যেন তাদের ভবিষ্যতের পথে অন্তরায় না হয়ে দাঁড়ায়, সেজন্য সরকার মানবিক বিবেচনায় বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো অভিন্ন প্রশ্নপত্র তৈরি করবে। নির্ধারিত একই তারিখে এই পরীক্ষাগুলো গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি স্বীকার করেন যে, প্রশ্নপত্র প্রণয়নে ত্রুটি থাকার কারণে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে ইতিমধ্যে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও তিনি সংসদে অবহিত করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ নম্বর ও ৭ নম্বর প্রশ্নে যে ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্য নিশ্চিত করতে ওই দুই প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর সকল শিক্ষার্থীকে প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা সংসদীয় কার্যক্রমে গুরুত্বের সঙ্গে গৃহীত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা দূর করতে মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ লাঘব করবে এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, প্রশ্নপত্র প্রণয়নে যারা গাফিলতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য যে, এইচএসসি পরীক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান মাইলফলক। এ ধরনের পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রশ্নপত্রের মানদণ্ড বজায় রাখা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। মন্ত্রী তার বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোকে নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশেষ পরীক্ষার সময়সূচি ও নিয়মাবলী প্রকাশের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের পরবর্তী প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিতে পারে।