কক্সবাজার সদর মডেল থানা
কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ঢাকাগামী একটি স্লিপার বাসে অভিযান চালিয়ে ৯২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে বাসের সহকারী (হেলপার) শেখ রাতুলকে (২৩) আটক করা হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। আটক শেখ রাতুল সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেরশ্বর ইউনিয়নের শেখ সাইফুল ইসলামের ছেলে। মাদক চালানের সাথে জড়িত বাস চালক পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার জন্য একটি স্লিপার কোচ প্রস্তুত হচ্ছিল। এ সময় পুলিশের কাছে গোপন সংবাদ আসে যে, বাসটিতে করে মাদকের একটি বড় চালান ঢাকায় পাচার করা হচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল টার্মিনালে অবস্থানরত বাসটিতে আকস্মিক অভিযান চালায়। তল্লাশিকালে বাসের ভেতর ৪ ও ৫ নম্বর স্লিপার সিটের নিচের পাটাতন থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৯২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টার্মিনালে ঢাকাগামী ওই বাসে তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক হেলপার শেখ রাতুল সিটের নিচে ইয়াবা লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান জব্দ করা সম্ভব হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসের চালক নাজমুল কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পলাতক চালককে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক পাচারের জন্য পরিবহন খাতকে ব্যবহার করছে অপরাধী চক্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে বিভিন্ন বাসের অভ্যন্তরে বিশেষ চেম্বার তৈরি করে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক বহন করা হচ্ছে। এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে এবং পাচারের রুট বন্ধ করতে বাস টার্মিনালসহ কক্সবাজারের প্রবেশ ও বাহির পথগুলোতে তল্লাশি চৌকির কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।