ক্রীড়া প্রতিবেদক
ইংল্যান্ড সফরে টানা ব্যর্থতার মুখে পড়েছে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ভারত। চলতি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচ খেলে একটিতেও জয় পায়নি তারা; যার মধ্যে পাঁচটিতেই হার এবং একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে টানা দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন বিপর্যয় এবং আয়ারল্যান্ডের মতো তুলনামূলক দুর্বল দলের কাছে টানা দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ খোয়ানো দেশের ক্রিকেট মহলে বড় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড সফর শেষেই দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স মূল্যায়নে বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠকে (রিভিউ মিটিং) বসার ঘোষণা দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই)।
বর্তমানে স্কটল্যান্ডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বোর্ড সভায় অবস্থানরত বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইংল্যান্ডে দলের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে দেশে ফেরার পর মূল সদস্যদের নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিসিসিআই সচিবের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন ছন্দপতন অস্বাভাবিক নয় এবং বোর্ড একে একটি খারাপ সময় হিসেবেই বিবেচনা করছে। আগামী ১৯ জুলাই দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে দল দেশে ফেরার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মূলত ভুলত্রুটি শুধরে আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
সম্প্রতি ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়া দলটির এই আকস্মিক বিপর্যয়ের পেছনে স্কোয়াডের বড় পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সিরিজে দলের নিয়মিত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর পাশাপাশি মূল স্কোয়াড থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়াস আইয়ার দায়িত্ব নিলেও এখনো জয়ের দেখা পাননি। এছাড়া ১৫ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর অভিষেক ঘটানো হলেও তিনি এখনো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।
প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের অধীনে দলটির দ্বিপাক্ষিক সিরিজের পারফরম্যান্সে এমন ওঠানামা এবারই প্রথম নয়। যদিও তার তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০২৫ সালের এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে ভারত, তবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও টেস্ট ফরম্যাটে দলটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বেশ নাজুক। ২০২৩-২৫ চক্রের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে ব্যর্থ হওয়া ভারত ২০২৫-২৭ চক্রেও বেশ জটিল সমীকরণের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হার দলের রণকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই টেস্ট দল নির্বাচনে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের চেয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগকে (আইপিএল) অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়ার নীতি নিয়ে সমালোচনা করে আসছেন। তবে আইসিসির বড় টুর্নামেন্টগুলোতে একের পর এক সাফল্য এনে দিয়ে কোচ গম্ভীর বারবার নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই পর্যালোচনা বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আজ ১১ জুলাই ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে, যার পরপরই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হবে দুই দল।