1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ

যমুনার তীব্র ভাঙনে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে দৌলতপুরের চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৮ বার দেখা হয়েছে

সারাদেশ ডেস্ক

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় যমুনা নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নদীভাঙন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির মূল ভবনের সন্নিকটে পৌঁছানোয় যেকোনো মুহূর্তে এটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীর ও ভবনের সামনের একাংশ নদীগর্ভে ধসে গেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রশাসনের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ও মূল্যবান শিক্ষাসামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, উজানের ঢল ও নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে গত কয়েক দিনে যমুনার ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় মাদ্রাসার মূল ভবনের নিচের মাটি সরে গেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পাশাপাশি সংলগ্ন বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা বাকি বিল্লাহ জানান, মাদ্রাসার বেশ কিছু অংশ ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং মূল ভবনটি আর ব্যবহারের উপযোগী নিরাপদ অবস্থায় নেই। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় চেয়ার, টেবিল, আলমারিসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আসবাবপত্র দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভাঙনের বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে পুরো অবকাঠামোটি যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পরিস্থিতি পরিদর্শনে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নূরে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ভাঙনকবলিত মাদ্রাসা এলাকা পরিদর্শন শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভাঙনের তীব্রতার তুলনায় জিওব্যাগ ফেলার বর্তমান উদ্যোগটি পর্যাপ্ত নয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে, যার ফলে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি ও জনবসতি নদীগর্ভে হারিয়ে যায়। ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের জন্য যমুনা নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষাসহ স্থায়ী সুরক্ষার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026