প্রবাস ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস এঞ্জেলেসে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মির্জা ফাহিম আহমেদ (২৬) নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসী তরুণ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত বুধবার সকাল ৭টা ৫৩ মিনিটে লস এঞ্জেলেসের ভ্যালি এলাকার ল্যাসেন স্ট্রিট ও রেসিডা বুলেভার্ড ইন্টারসেকশনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফাহিম ঢাকার ঝিকাতলা এলাকার বাসিন্দা এবং পরিবারসহ প্রায় দেড় বছর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।
লস এঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ফাহিম নিজের গাড়ি চালিয়ে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। ল্যাসেন স্ট্রিট ও রেসিডা বুলেভার্ডের সংযোগস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি দ্রুতগামী গাড়ির সাথে তাঁর গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, একটি গাড়ির তীব্র ধাক্কায় ফাহিমের গাড়িটি সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি লাইট পোলে সজোরে আঘাত করে। এতে গাড়িটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ফাহিম গাড়ির ভেতরেই আটকা পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ফাহিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। তবে উদ্ধারকারী চিকিৎসকদের দল দুর্ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় অপর দুটি গাড়ির চালকও গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ঝিকাতলার ২২/২ তল্লাবাগ এলাকার মির্জা রবিউল আলম বাবুর জ্যেষ্ঠ পুত্র মির্জা ফাহিম আহমেদ। প্রায় ১৮ মাস আগে তিনি মা, বাবা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে উন্নত জীবনের আশায় ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। কর্মঠ ও বিনয়ী হিসেবে পরিচিত ফাহিম গত ঈদুল আজহার ছুটিতে বাংলাদেশে এসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন এই আকস্মিক দুর্ঘটনা তাঁর পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এনেছে।
নিহতের ছোট ভাই মির্জা তামিম জানিয়েছেন, লস এঞ্জেলেস কাউন্টি করোনার অফিস থেকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ১১ জুলাই শনিবার ফাহিমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। মরদেহ গ্রহণের পর স্থানীয় সময় অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। প্রবাসে দেশের এই কৃতি সন্তানের এমন অকাল মৃত্যুতে লস এঞ্জেলেসে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকেও পরিবারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে লস এঞ্জেলেস পুলিশ একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা বা অতিরিক্ত গতি এই দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মির্জা তামিম আরও উল্লেখ করেন, এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী চালকদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করতে পরিবারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে স্থানীয় একজন আইনজীবীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সড়ক নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় আদালতেই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।