সারাদেশ ডেস্ক
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি, লংগদু ও বিলাইছড়িসহ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা ও লংগদু-দীঘিনালা সড়কসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে এবং পাহাড় ধসের কারণে বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নে দলমনি চাকমা নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বিলাইছড়িতে একজন ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাজেকে আটকেপড়া মোট ৫৭১ জন পর্যটককে গত দুই দিনে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় খাগড়াছড়িতে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির প্রধান নদ-নদী ও কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নে নদী পার হতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া দলমনি চাকমার মরদেহ আজ শুক্রবার উদ্ধার করা হয়। বিলাইছড়ি উপজেলায় নিখোঁজ থাকা ব্যবসায়ীর সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৫২৪ জন উপদ্রুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই জেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেগুলোকে সম্ভাব্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করাসহ নানামুখী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
যোগাযোগ ও পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতার বিষয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়া সাজেক ভ্যালিতে আটকেপড়া ৪২১ জন পর্যটককে আজ শুক্রবার সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় খাগড়াছড়িতে নিরাপদে নিয়ে আসা হয়েছে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবারও দেড় শতাধিক পর্যটককে একইভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জেলা সদরসহ ১০টি উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী বণ্টন করা হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে তদারকি জোরদার করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাঙামাটি শহর এবং কাপ্তাইয়ের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন এবং রাজনৈতিক দলসহ সামাজিক সংগঠনগুলোকে উপদ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
বর্তমানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সর্বসাধারণকে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।