শিক্ষা ডেস্ক
দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং একটি সমন্বিত ও কার্যকর গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় গবেষণা রিপোজিটরি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সামগ্রিক গবেষণার তথ্য ও ফলাফল সুসংগঠিতভাবে সংরক্ষণ, সমন্বয় এবং এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন-চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর গবেষণার পরিধি বাড়াতে অর্থায়নের সংকট দূর করার পাশাপাশি বরাদ্দের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ইউজিসি মিলনায়তনে ‘ইউজিসি পিএইচডি স্কলারশিপ ২০২৫-২০২৬’-এর আওতায় নির্বাচিত গবেষকদের জন্য আয়োজিত এক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে কমিশনের নীতিনির্ধারকেরা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের এই নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং এর ফলাফল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মূলে রয়েছে গবেষণা, যা বাংলাদেশেও সফলভাবে প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থায়নের সংকট সম্পর্কিত কিছু প্রচলিত ধারণা রয়েছে, যা পুরোপুরি সঠিক নয়। বিগত এক বছরে ইউজিসির মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রমে রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রায় ৮৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারের গবেষণাবান্ধব নীতিমালার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে এই খাতে অর্থায়নের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে গবেষণার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার হতে হবে সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক এবং সুনির্দিষ্ট খাতভিত্তিক। শিক্ষার্থী, তরুণ শিক্ষক ও অভিজ্ঞ গবেষকদের জন্য যে অর্থ নির্ধারিত থাকবে, তা কেবল সংশ্লিষ্ট গবেষণা কার্যক্রমেরই ব্যয় করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই অন্য খাতে স্থানান্তর করা যাবে না।
জাতীয় উন্নয়ন ও সমসাময়িক সমস্যাাবলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে গবেষণা পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন এমন গবেষণা পরিচালনা করেন যা বাস্তবভিত্তিক সমাধান তৈরি করতে পারে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। তাত্ত্বিক গবেষণার পাশাপাশি প্রায়োগিক গবেষণার ওপর জোর দেওয়া হলে দেশের শিল্প ও প্রযুক্তি খাত সরাসরি উপকৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ইউজিসি পিএইচডি স্কলারশিপ কর্মসূচির জন্য দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৪৭টি আবেদন জমা পড়েছিল। কমিশনের স্ক্রিনিং কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৬৫ জন গবেষককে এই মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এই বৃত্তি কর্মসূচিকে দেশের উচ্চশিক্ষা স্তরে গবেষণা সংস্কৃতি জোরদার করার একটি অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে নির্বাচিত এই গবেষকবৃন্দ এবং তাদের নিজ নিজ গবেষণা তত্ত্বাবধায়কেরা উপস্থিত ছিলেন। ইউজিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে গবেষকদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।