বিশেষ প্রতিবেদক
বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের করার পাশাপাশি সেখানে যৌথ উদ্যোগে ড্রোন কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, বগুড়ায় বিমান ঘাঁটির অনুমোদন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন যুদ্ধবিমানগুলো এই ঘাঁটিতে সংযুক্ত করা হবে। এছাড়া তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে বগুড়াতেই একটি ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং নিজের রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব জেলার সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে বগুড়াকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। অতীতে রাজনৈতিক কারণে এই অঞ্চলের উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তি নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় জনস্বার্থ রক্ষায় সরকার কাজ করছে। বগুড়ায় নতুন গঠিত চারটি ইউনিয়নের নাম নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ও জনগণের চাহিদার প্রেক্ষিতে তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, এই নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিশাল জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নের পাশাপাশি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ উত্তরণে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
নির্বাচনি হলফনামা ও সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁর যাবতীয় সম্পদের বিবরণ নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে সংরক্ষিত আছে। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়ে গণমাধ্যমে আসা কিছু প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, পারিবারিক কোম্পানির নামে তাঁর সন্তান জমি ক্রয় করেছে এবং নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের প্রয়োজনে বৈধ উপায়েই এই সম্পদ কেনা হয়েছে। ক্রয়কৃত সম্পদ বৈধ নাকি অবৈধ, তা তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া ক্রিকেট বোর্ডে তাঁর সন্তানের পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক কারণে এবং যেকোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতে তিনি নিজেই তাঁর সন্তানকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন। বিগত দিনে রাজনৈতিক কারণে নিগৃহীত হওয়া যোগ্য যুবকদের দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।