অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিনগত রাতে তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন ছয়টি থানা এলাকায় একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে পুলিশ এই বিশেষ তৎপরতা চালায় বলে জানা গেছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, চুরি ও বিভিন্ন মেয়াদের ওয়ারেন্টসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়ে থাকে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডিএমপির সরবরাহকৃত তথ্য ও থানাভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তেজগাঁও বিভাগের অন্তর্গত মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই থানা এলাকা থেকে মোট ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া আদাবর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ জন এবং শেরেবাংলা নগর ও হাতিরঝিল থানা এলাকা থেকে ৯ জন করে মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে তেজগাঁও মূল থানা এলাকা থেকে ৫ জন এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে ১ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীর যেসব এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেগুলোকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও হাতিরঝিল এলাকার কিছু পকেট জোনে মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের যৌথ ও বিশেষ অভিযান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ৫১ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় ফৌজদারি কার্যবিধি ও সুনির্দিষ্ট অপরাধের ধারায় মামলা রুজু বা পূর্ববর্তী মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বুধবার তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মহানগরে অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের এই বিশেষ অভিযান ও চিরুনি তল্লাশি অব্যাহত থাকবে বলে ডিএমপি সূত্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।