1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
লালমনিরহাটে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান: ১৫ মাদকসেবী আটক, প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জরুরি এনআইডি সেবা বন্ধ, নতুন নিয়মে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ বেসরকারি হাসপাতালে লেবার রুম স্থাপন ও মিডওয়াইফ নিয়োগের নির্দেশ, ৭ দিনের আলটিমেটাম স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ১৮ জুলাইকে ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত, আর্মি স্টেডিয়ামে সমাবেশের ডাক স্পেনের বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচের আগে অবসর নিয়ে ভাবছেন না রোনালদো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ক্রাউন প্রিন্সের চিঠি হস্তান্তর দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ: ঢাকার বাইরে ১৪ জেলা ঝুঁকিতে ন্যাটো সম্মেলনের আগে ট্রাম্প-মেলোনি কূটনৈতিক বিরোধ তুঙ্গে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্ক আগামী ১৫ আগস্ট চালু হচ্ছে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের ৫০০ শয্যার দ্বিতীয় ইউনিট বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে ৪৪ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার একর জমি ব্যবহারের উদ্যোগ

বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে ৪৪ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার একর জমি ব্যবহারের উদ্যোগ

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ, রুগ্‌ণ ও অলাভজনক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত সরকারি কলকারখানার ১০ হাজার একরেরও বেশি অব্যবহৃত জমির তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন খাতের শিল্পপতিদের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন করার পর এই তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিডার আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, সরকারের পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অধীনে থাকা ৪৪টি বিনিয়োগযোগ্য স্থানকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশন (বিসিআইসি), বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি), বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) এবং বাংলাদেশ বস্ত্রকল করপোরেশন (বিটিএমসি)। দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডরগুলোয় অবস্থিত এসব জমিতে ইতিমধ্যে সড়ক সংযোগ, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন পরিষেবা সুবিধা এবং বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো রয়েছে। ফলে একক, যৌথ বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এসব জমি ইজারা নিয়ে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন করতে পারবে।

প্রকাশিত তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি অব্যবহৃত জমি রয়েছে বিএসএফআইসির আওতাধীন বন্ধ ও আংশিক চালু থাকা ১৩টি চিনিকলে, যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ হাজার একর। চিনিকল ছাড়াও ভারী শিল্প ও বস্ত্র খাতের সচল বা আংশিক সচল কারখানায়ও বিপুল পরিমাণ জমি খালি পড়ে আছে। যেমন, বিএসইসির অধীন সীতাকুণ্ডে দেশের একমাত্র সরকারি গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৩১ একর জায়গার মধ্যে ১০ একর জমিই অব্যবহৃত। এছাড়া বিএসইসির অধীনে থাকা আরও চারটি কারখানায় ১৬০ একরের বেশি খালি জমি রয়েছে, যেখানে আধুনিক স্টিল মিল, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, চার্জিং উপকরণ, গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরি বা সংযোজন এবং বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরির শিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, বিটিএমসির ২৩৮ একর এবং বিসিআইসির ৯২৫ একর জায়গা খালি পড়ে আছে। এর বাইরে বিজেএমসির অধীনে ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুট মিলের ১১০ একর জায়গা ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিডার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, সরকারের কাছে ১০০টিরও বেশি শিল্পকারখানায় অব্যবহৃত জমি রয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ৪৪টি কারখানার তালিকা বিডার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি যেকোনো বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এই তালিকা থেকে উপযুক্ত জায়গা বেছে নিয়ে সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা দিতে পারবে। ইতিমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জায়গায় কৃষিনির্ভর শিল্পের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে এবং আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে কয়েকটি স্থানে আনুষ্ঠানিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এই নতুন উদ্যোগে বেসরকারি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহ দেখালেও শিল্প খাতের বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতিমধ্যে বিনিয়োগকারীরা গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রে সংযোগ সুবিধা থাকলেও নিয়মিত এবং মানসম্মত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই নতুন স্থানে বিনিয়োগের পূর্বে এই সমস্যার টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের নিশ্চয়তা চান তাঁরা।

বিনিয়োগকারীদের এই উদ্বেগের বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্যোক্তাদের গ্যাস, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রশাসনিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রতি সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সাথে দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিতকরণে শীর্ষ পর্যায় থেকে নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026