অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) সংকট ও দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারে রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সোনা। সবশেষ গত ৩ জুলাই বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত সর্বোচ্চ দামেই আজ সোমবার (৬ জুলাই) দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মূল্যবান এই ধাতুটির বেচাকেনা চলছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বাজুস সূত্রে জানা গেছে, দেশের বাজারে এটিই সোনার সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ কমিটি গত ৩ জুলাই সকাল থেকে এই নতুন দাম কার্যকর করে। ৩ জুলাইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে প্রতি ভরি সোনার দাম একলাফে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ানো হয়। এর আগে গত ২ জুলাইও ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ক্রেতাদের ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা কিনতে হচ্ছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ Explaining ১৪৮ টাকা।
এর আগে গত ২ জুলাই সকালে ঘোষিত মূল্যে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। সে সময়ে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ৩ জুলাই এই দাম পুনরায় বাড়ানো হয়।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি ২০২৬ সালে দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত মোট ৮৬ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। এর মধ্যে ৪৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪২ বার কমানো হয়েছে এবং ১ বার ভ্যাট সংক্রান্ত নীতি সমন্বয় করা হয়েছে। ঘন ঘন এই দাম পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার অস্থির সরবরাহ ব্যবস্থাকে দায়ী করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ বা নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য তালিকা কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে। তবে এই নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজভেদে জুয়েলার্সগুলো নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী আলাদা মজুরি যুক্ত করতে পারবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ঘোষিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই সরকারি ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানই গ্রাহকদের কাছ থেকে অলঙ্কার বিক্রির সময় অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে সোনার এই চড়া দাম অভ্যন্তরীণ অলঙ্কার শিল্প ও সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।