আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশবাহিনী। সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে পরিচালিত এই হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং আরও ২৪ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসন ও সিটি মেয়রের কার্যালয় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হামলায় রাজধানীর বেশ কয়েকটি বহুতল আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো এবং রাজধানীর সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, সোমবার ভোরে আকস্মিকভাবে এই বিমান হামলা শুরু হয়। হামলার পরপরই উদ্ধারকারী দলগুলো বিধ্বস্ত ভবনগুলো থেকে আটকে পড়া বাসিন্দাদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য কাজ শুরু করে। রাজধানীর পোডিলস্কি জেলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাথমিকভাবে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই এলাকা থেকে নারী ও শিশুসহ মোট ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা।
প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিয়েভের পূর্বাঞ্চলীয় দারনিৎস্কি জেলাতেও রুশবাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। সেখানে একটি ২৫ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ভূপাতিত ড্রোনের টুকরো আঘাত হানলে আরও দুজন নিহত হন। এর পাশেই অবস্থিত একটি ৩০ তলা ভবনে বিমান হামলার পর আগুন লেগে যায়। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারের (২ জুলাই) এক হামলায় এই ভবনটিতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল, যার ফলে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটে।
ভোররাতে রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকায় একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে আকাশ কেঁপে ওঠে। রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তবে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হলে বহুতল ভবনগুলোতে আগুন লেগে যায় এবং অবকাঠামোগত ধস নামে। হামলার তীব্রতায় রাজধানীর আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। বিস্ফোরণের ফলে বাতাসে বিষাক্ত উপাদান ছড়িয়ে পড়ায় শহরের বায়ুর গুণমান মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের ঘরের জানালা বন্ধ রাখার এবং ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। জীবন বাঁচাতে শহরের হাজার হাজার বাসিন্দা মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ পার্কিং গ্যারেজগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এই বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য রুশ বিমান হামলা সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার এই ভয়াবহ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবেশী দেশ এবং ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য পোল্যান্ড সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। নিজেদের আকাশসীমা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে পোলিশ বিমানবাহিনী কিছু সময়ের জন্য আকাশে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।