বিশেষ প্রতিবেদক
সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে অধিকতর স্বচ্ছ, ফলপ্রসূ ও অর্থবহ করার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। নবগঠিত এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে। গতকাল রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। দেশের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থা সংস্কার এবং এর কার্যকারিতা বাড়াতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুনর্গঠিত এই বিশেষ কমিটি মূলত ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ এবং ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র সামগ্রিক কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ ও আধুনিকায়নে কাজ করবে। দেশের বিদ্যমান পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ) এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর)-এর সংশ্লিষ্ট ধারা ও উপধারাগুলো পর্যালোচনা করে কীভাবে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করা যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করবে এই কমিটি। এছাড়া সরকারের উল্লিখিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভা কমিটি কর্তৃক সময়ে সময়ে অর্পিত যে কোনো দায়িত্ব ও বিশেষ কাজ সম্পাদনের এখতিয়ারও এই কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।
নয় সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে সরকারের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী এবং সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ আমলাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ; নৌপরিবহন এবং সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান; এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তার জন্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের। এদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহমেদ। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের মেগা প্রকল্প ও রাষ্ট্রীয় ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আর্থিক অপচয় রোধে এই কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হয় উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিভিন্ন সরকারি কেনাকাটায়। এই ক্রয় প্রক্রিয়াকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আরও বেশি শক্তিশালী করতে এবং বিশ্বমানের টেকসই প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই মূলত এই কমিটি কাজ করবে। বিশেষ করে পিপিএ এবং পিপিআর-এর আওতাভুক্ত জটিল বিষয়গুলো সহজীকরণ এবং সমসাময়িক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে এর সামঞ্জস্য বিধান করার দায়িত্ব পালন করবে এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই এই কমিটির কার্যকারিতা তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।