খেলাধূলা ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের ব্যবধানে হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। দলের এই অপ্রত্যাশিত ও হতাশাজনক বিদায়ের পর দেশের মানুষ ও বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি সমর্থকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন সেলেসাও অধিনায়ক মারকিনিওস। ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সিনিয়র খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে দলের এই ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে তুলে নেন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই ব্রাজিল এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল। তবে তারকা মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিকও একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। অন্যদিকে, আক্রমণভাগে পাওয়া সুযোগগুলো দারুণভাবে কাজে লাগায় নরওয়ে। দলটির তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলের ওপর ভর করে জয় নিশ্চিত করে নরওয়েজিয়ানরা। ব্রাজিলের পক্ষে ব্যবধান কমানো সম্ভব হলেও তা ম্যাচ বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ হাতছাড়া করা এবং রক্ষণভাগের অসতর্কতাই ব্রাজিলের বিদায়ের মূল কারণ বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় অধিনায়ক মারকিনিওস অত্যন্ত আবেগঘন ও দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ স্তরের মঞ্চে যে দল তুলনামূলকভাবে কম ভুল করবে, তারাই পরের পর্বে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। নরওয়ে আজ তাদের সুযোগগুলো পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে, যা আমরা পারিনি। আমরা পেনাল্টিসহ বেশ কিছু নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করেছি, যার খেসারত দিতে হলো দলটিকে।”
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মারকিনিওস বলেন, “আমি দেশের সমস্ত ফুটবলপ্রেমী ও স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে আমাদের সমর্থন জোগানো প্রতিটি ভক্তের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। এই মুহূর্তে আমাদের এই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে।” দলের সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তরুণদের আড়াল করে তিনি আরও বলেন, “অধিনায়ক হিসেবে এই ব্যর্থতার দায় আমারই নেওয়া উচিত। আমি চাই না এই হারের মানসিক চাপ নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের ওপর পড়ুক। তারা যেন শান্তিতে ও চাপমুক্ত পরিবেশে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়।”
ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও নতুন প্রজন্মের জন্য সমর্থন চেয়ে ব্রাজিলীয় অধিনায়ক বলেন, “আগামী বিশ্বকাপের জন্য এখনও চারটি বছর সময় বাকি রয়েছে। নতুন যারা দলে আসবে, তারা যেন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে, সেজন্য এখন থেকেই তাদের প্রতি দেশবাসীর সমর্থন প্রয়োজন। আশা করি, আগামীতে ব্রাজিল বিশ্বমঞ্চে বড় কোনো সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম হবে।” এই পরাজয়ের পর ব্রাজিলের ফুটবল কাঠামো এবং কৌশলগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।