প্রবাস ডেস্ক
কানাডার অ্যালবার্টা প্রদেশের ক্যালগেরি শহরে শুরু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বহিরঙ্গন উৎসব ও রোডিও শো ‘ক্যালগেরি স্ট্যাম্পিড’। শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ স্ট্যাম্পিড প্যারেডে এবারই প্রথম অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো পর্যটকদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
১৯১২ সালে প্রথম শুরু হওয়া ক্যালগেরি স্ট্যাম্পিড মূলত উত্তর আমেরিকার কাউবয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য উদযাপনের একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। চলতি বছরের ৩ জুলাই শুরু হওয়া ১০ দিনব্যাপী এই উৎসব আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে। বিশ্বজুড়ে সমাদৃত বড় বাজেটের এই জমকালো আয়োজনে এবার বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও জাতীয় প্রতীকগুলো প্রদর্শনের মাধ্যমে বৈশ্বিক দরবারে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরির (বিসিএসি) উদ্যোগে এবারের প্যারেডে প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম নিদর্শন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, ভাষা আন্দোলনের স্মারক শহীদ মিনার, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং জাতীয় পশু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের প্রতিকৃতি চারুকলা প্রদর্শনীর আদলে তুলে ধরা হয়। প্যারেডজুড়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হয়, যা উৎসবে উপস্থিত লাখো আন্তর্জাতিক দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরির প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বহুজাতিক সংস্কৃতির দেশে প্রবাসী নতুন প্রজন্মের কাছে নিজস্ব কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা এবং বিদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের সমন্বয় ঘটানো এই অংশগ্রহণের অন্যতম উদ্দেশ্য। দীর্ঘমেয়াদে প্রবাসী নতুন প্রজন্ম যেন এই সাংস্কৃতিক ধারা বজায় রাখতে পারে, সে বিষয়ে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঐতিহাসিক এই আন্তর্জাতিক উৎসবের প্যারেডে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পর্যটন, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা আরও সুদৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।