বিশেষ প্রতিবেদক
চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক হাব (পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ কেন্দ্র) হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সমন্বিত মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই অঞ্চলের গভীর সমুদ্রবন্দর, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ফ্রি জোনগুলো পুরোপুরি সচল হলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চারিত হবে, যা পুরো চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দেবে।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর থানাধীন ইশান মিস্ত্রি হাট সড়কের চলমান সংস্কারকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে চট্টগ্রামের কৌশলগত গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার নানা দিক তুলে ধরেন।
বাজেট বাস্তবায়ন ও সামষ্টিক অর্থনীতির গতিধারা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের ঘোষিত বাজেট যথাযথ ও সময়োপযোগী মূল্যায়নের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। বিশ্ববাজারে নানামুখী চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ ও আস্থা ক্রমাগত বাড়ছে। কাঠামোগত সংস্কার ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে আগামী দিনে বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বিদেশি বিনিয়োগের আকর্ষণীয় কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বৈদেশিক বিনিয়োগ, বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, চীনের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও উৎপাদনশীল খাতে বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগের তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিদেশি এই পুঁজি ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে সরকার ওয়ান-স্টপ সার্ভিস নিশ্চিতকরণসহ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের এবং সম্পূর্ণ সহায়ক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অগ্রগতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এই মেগা প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক নীতিসহায়তা দেওয়া হবে। সেখানে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ এবং উন্নত সংযোগ সড়কসহ আধুনিক লজিস্টিক অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ইতিমধ্যে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আনোয়ারার এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চালু হলে তা দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এর আগে অর্থমন্ত্রী ইশান মিস্ত্রি হাট সড়কের সামগ্রিক সংস্কারকাজ সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং কাজের গুণগত মান ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। বর্ষা মৌসুমের আগেই জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করে স্থানীয় বাসিন্দা ও বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কড়া তাগিদ দেন।
অবকাঠামো পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে অর্থমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ আজিজসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।