1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আগামী পাঁচ বছরে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের মেগা পরিকল্পনা ঢালাও আসামি ও নানা অসংগতি: ঝুলে আছে জুলাই আন্দোলনের অধিকাংশ মামলার তদন্ত মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের নকআউট পর্বের ম্যাচ নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে লালমনিরহাটে যৌতুকবিহীন ৭ জুটির গণবিয়ে সম্পন্ন, এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু আগামী আগস্ট মাসজুড়ে অনলাইনে নেওয়া হবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আবেদন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মানবিকতা: ভূমিকম্পে পা হারানো ভেনেজুয়েলার শিশুকে জার্সি ও ভিডিও বার্তা প্রেরণ আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষকৃত্য: পাঁচ হাজারেরও বেশি স্কুল উন্মুক্ত করল ইরান বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

আগামী পাঁচ বছরে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আজ শনিবার সকালে যশোর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই তথ্য জানান। এদিন তিনি জিলা স্কুলের ১০ তলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এক লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর শিক্ষা বোর্ড এই ব্যাপকভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী দেশের জ্বালানি খাতের অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মূলত আমদানি করা ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল-নির্ভর ছিল। পরবর্তী সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়। তবে এসব প্রচলিত জ্বালানি পরিবেশ ও প্রকৃতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক গ্রিন এনার্জি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার এখন পর্যায়ক্রমে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

জালানি খাতের এই আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বাজেটে ইলেকট্রিক বাইকের ওপর ২০৩১ সাল পর্যন্ত শুল্ক ও কর ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা দেশে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার গতিশীল করবে। এর পাশাপাশি নাগরিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করতে এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন নীতিমালা’ গ্রহণ করা হয়েছে। এই নীতিমালার আওতায় দেশের সব সিটি করপোরেশন এবং বড় বড় পৌরসভাগুলোর বর্জ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী করে তোলার জন্য সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন শহরের বর্জ্য সমস্যার টেকসই সমাধান হবে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ।

শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, প্রযুক্তির সঠিক ও সময়োপযোগী সমন্বয়ের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান প্রক্রিয়াকে শিক্ষার্থীদের কাছে আনন্দময় ও আকর্ষণীয় করে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীল ও বাস্তবমুখী শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষে অর্জিত মেধা ও যোগ্যতাকে দেশ পুনর্গঠনের কাজে নিয়োজিত করতে হবে। তরুণ সমাজকে সব ধরনের নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর পথ পরিহার করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।

যশোর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে যশোর জিলা স্কুলে ১০ তলা বিশিষ্ট এই আধুনিক একাডেমিক ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন তদারকি করছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রতিমন্ত্রী নির্মাণাধীন ভবনের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন এবং কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার তাগিদ দেন। এরপর তিনি জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান এবং যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুকে আযম মু. আব্দুস ছালাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা, জিলা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের এই দ্বিমুখী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এর সফল বাস্তবায়নে সর্বস্তরের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026