1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আগামী পাঁচ বছরে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের মেগা পরিকল্পনা ঢালাও আসামি ও নানা অসংগতি: ঝুলে আছে জুলাই আন্দোলনের অধিকাংশ মামলার তদন্ত মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের নকআউট পর্বের ম্যাচ নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে লালমনিরহাটে যৌতুকবিহীন ৭ জুটির গণবিয়ে সম্পন্ন, এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু আগামী আগস্ট মাসজুড়ে অনলাইনে নেওয়া হবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আবেদন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মানবিকতা: ভূমিকম্পে পা হারানো ভেনেজুয়েলার শিশুকে জার্সি ও ভিডিও বার্তা প্রেরণ আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষকৃত্য: পাঁচ হাজারেরও বেশি স্কুল উন্মুক্ত করল ইরান বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

দেশজুড়ে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নে সরকারের মহাপরিকল্পনা

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের সবকটি জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতে রেলওয়ে সংযোগ রয়েছে। অবশিষ্ট ১৫টি জেলাকে পর্যায়ক্রমে এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ শুক্রবার রাতে নেত্রকোণা রেলস্টেশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং নেত্রকোণা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ ও বারহাট্টা রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থায় গতিশীলতা আনতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে রেল খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় অর্থনীতিতে রেলওয়ের অবদান বাড়াতে এবং যাত্রীসেবা আধুনিকায়ন করতে বেশ কিছু নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রেলপথে যানজট ও দুর্ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ, দূরপাল্লার ট্রেনে আধুনিক ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ড লাইনের মাধ্যমে রাজধানী ও বাণিজ্যিক রাজধানীর মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ অন্যতম।

নেত্রকোণা সফরকালে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, দেশের অবহেলিত ও হাওরবেষ্টিত অঞ্চলগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। নেত্রকোণাকেন্দ্রিক রেলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বেশ কিছু দাবি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও সক্ষমতার কারণে সব উন্নয়ন প্রকল্প একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হলেও সেই অনুপাতে পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ও যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ করা হয়নি। এর ফলে বিশেষ করে দেশের মিটারগেজ রুটগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ইঞ্জিন ও বগির তীব্র সংকট চলছে, যা যাত্রী পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

এই সংকট নিরসনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন লোকোমোটিভ ও যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসব ভারী যন্ত্রপাতি ও কোচ সংগ্রহ করতে সাধারণত দুই থেকে তিন বছর সময় লেগে যায়। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় রোধ ও যাত্রীসেবা স্বাভাবিক রাখতে রেলওয়ের ওয়ার্কশপগুলোতে অকেজো ও পুরনো ইঞ্জিন মেরামতের কাজ দ্রুততার সাথে করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় রেলওয়ে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে নেত্রকোণা রেলস্টেশনের ওয়েটিং রুম আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্টেশনের টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুতই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়া যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এই রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

নেত্রকোণা অঞ্চলে নতুন রেললাইন স্থাপনের সম্ভাবনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে স্থানীয় জনগণের দাবি ও গুরুত্ব বিবেচনা করে রেলওয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জনস্বার্থ ও যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও লাভজনক প্রমাণিত হলেই কেবল চূড়ান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে যেকোনো নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে মাঠপর্যায়ের কঠোর যাচাই-বাছাই ও সমীক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রেলওয়ের সামগ্রিক আধুনিকায়ন ও রুট সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং পর্যটন খাতের বিকাশে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের কাছে আধুনিক, নিরাপদ ও দ্রুতগতির রেলসেবা পৌঁছে দেওয়া।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026