নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশীয় উদ্ভাবনকে দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে কাজে লাগাতে উদ্ভাবক মো. সলেমান আলীর তৈরি ‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ সরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৩ জুলাই সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী বাজারের চুনিহাড়ী পশ্চিমপাড়ায় আয়োজিত ‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এই প্রযুক্তি দেশের কৃষি ব্যবস্থায় একটি টেকসই পরিবর্তন আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন উদ্ভাবন দেশের কৃষিতে এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। বর্তমানে সনাতন ও বিদ্যুৎ বা ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থার কারণে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের সেচ ব্যয় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব আধুনিক কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌরশক্তিচালিত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো সময়ের দাবি। সরকারের পক্ষ থেকে সলেমান আলীর এই উদ্ভাবিত সোলার সেচপাম্প দেশের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই সাথে এই দেশীয় প্রযুক্তিকে আরও উন্নত ও আধুনিকায়ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশের সার্বিক কৃষি খাতকে আধুনিক, টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ের নতুন নতুন উদ্ভাবনকে যদি যথাযথভাবে উৎসাহিত এবং পৃষ্ঠপোষকতা করা যায়, তবে দেশের সামগ্রিক কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে এবং এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা সরাসরি অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবেন। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পূর্বে মন্ত্রী নিজে উক্ত সোলার সেচপাম্পের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সশরীরে পরিদর্শন করেন এবং এর কার্যকারিতা ও কারিগরি দিক নিয়ে উদ্ভাবক মো. সলেমান আলীর সাথে দীর্ঘক্ষণ মতবিনিময় করেন।
উদ্ভাবক মো. সলেমান আলী তাঁর অনুভূতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যক্ত করে জানান, প্রচলিত বিদ্যুৎ ও আমদানি করা জ্বালানি তেলের (ডিজেল) বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত স্বল্প খরচে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করাই তাঁর এই উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে যখন বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয় কিংবা বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পায়, তখন এই পাম্প কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী সেচ সেবা দিতে সক্ষম হবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিটি দেশের প্রতিটি কোণায় এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে দ্রুত বিস্তৃত করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধে সৌরশক্তিচালিত সেচপাম্প অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনেও এ ধরনের দেশীয় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বড় অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদরের রায়পুর ইউনিয়নে আয়োজিত উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস। এছাড়াও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, কৃষি কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের বিপুল সংখ্যক কৃষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উক্ত অনুষ্ঠানে অংশ নেন।