দেশ সংবাদ ডেস্ক
মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষে তদবির করতে এলে তাও বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ছিলাদি এলাকায় আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ করে বলেন, অতীতে ১৭ বছরের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় যারা মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা তদবিরের সুযোগ থাকবে না। তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে অবিলম্বে এই অবৈধ ব্যবসা পরিহার করার আহ্বান জানান এবং অন্যথায় তাদের কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেন।
বক্তব্যের দ্বিতীয় অংশে মন্ত্রী দেশের সার্বিক নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নারীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে সরকার দেশের প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানকে লক্ষ্য করে বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির সূচনা করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীরা সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন, যা তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পর ভবিষ্যৎ সঞ্চয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার এই উদ্যোগকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বিনিয়োগ হিসেবে অভিহিত করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, একজন সচেতন মা যদি রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহযোগিতা পান এবং তা সঠিকভাবে ব্যবহার করে নিজের পরিবার ও সন্তানদের পরিচালনা করেন, তবে তাঁর সন্তানেরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পাবে। এর ফলে পর্যায়ক্রমে পুরো জাতি একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে উঠবে। সরকার মূলত একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিনির্মাণের লক্ষ্যেই এই খাতে বিপুল বিনিয়োগ করছে।
উক্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় পানিসম্পদমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ওলামা দলের সভাপতি শাহ মোহাম্মদ এমরান এবং দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সমবেত স্থানীয় বাসিন্দারা মন্ত্রীর বক্তব্যকে সাধুবাদ জানান এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।