আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলে শক্তিশালী জার্মানিকে পরাজিত করে নকআউট পর্বে (শেষ ষোলো) উত্তীর্ণ হওয়ার ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনে প্যারাগুয়েতে একদিনের বিশেষ জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা স্থানীয় সময় সোমবার রাতে দেশজুড়ে এই সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানান। মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমী দেশটিকে জাতীয় দলের স্মরণীয় জয় উদযাপনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানির মুখোমুখি হয়েছিল প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত এবং অতিরিক্ত সময় শেষেও ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় থাকায় খেলার ভাগ্য নির্ধারণে টাইব্রেকারের সাহায্য নেওয়া হয়। স্নায়ুচাপের এই চূড়ান্ত পরীক্ষায় জার্মানিকে ৪-৩ ব্যবধানে পরাজিত করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে লাতিন আমেরিকার এই দেশটি। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় করার পর পরই প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আনন্দ-উল্লাস শুরু হয়। রাজপথে নেমে আসেন হাজার হাজার উল্লসিত সমর্থক।
প্রধান কোচ গুস্তাভো আলফারোর অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে প্যারাগুয়ে ফুটবল দলের এই অভাবনীয় উত্থানকে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বড় ধরনের চমক হিসেবে দেখছেন। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানির বিপক্ষে এই জয়কে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং গৌরবময় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কোচের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্সের মেলবন্ধনে এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই বিশেষ ছুটি ঘোষণার বিষয়ে প্যারাগুয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিদ্যমান প্রশাসনিক আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্টের প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ তিনটি অতিরিক্ত সরকারি বা সাধারণ ছুটি ঘোষণার আইনি এখতিয়ার রয়েছে। ফুটবল দলের এই অভূতপূর্ব অর্জন এবং এর ফলে সৃষ্ট জাতীয় আবেগ ও উৎসবমুখর পরিস্থিতিকে সম্মান জানাতে প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা তাঁর এই বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতার ব্যবহার করেছেন।
জাতীয় পর্যায়ে এই ধরনের ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত প্যারাগুয়ের জনগণের মধ্যে ফুটবলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গভীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সাথে এই জয় আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে দলটির আত্মবিশ্বাস এবং অবস্থানকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। নকআউট পর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই জয়ের অনুপ্রেরণা দলটিকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ত করবে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।