আইন আদালত ডেস্ক
২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় দেবেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে এই রায় ঘোষণার কার্যক্রমটি জাতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে প্রসিকিউশন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি (৩০ জুন) ধার্য করেন। এর আগে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ আইনি যুক্তি-তর্ক ও শুনানি শেষে গত ১৪ মে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও ফারুক আহাম্মদ। অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও সিফাত মাহমুদ।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে উসকানি, পরিকল্পনা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। আন্দোলন চলাকালীন দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের সহিংস ভূমিকায় বহু সাধারণ নাগরিক ও শিক্ষার্থীর হতাহতের ঘটনায় তার নীতিগত ও প্রত্যক্ষ ইন্ধন ছিল বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে শুনানিতে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে হাসানুল হক ইনুকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সাথে তার প্রত্যক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করে তারা আসামির খালাস প্রার্থনা করেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই মামলার রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাইব্যুনালের এই রায় তৎকালীন রাজনৈতিক নীতি-নির্ধারকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে যেকোনো গণআন্দোলনে রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি কঠোর আইনি নজির হিসেবে গণ্য হতে পারে। আজ দুপুরেই নির্ধারিত শুনানির মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মামলার রায় জনসমক্ষে আসবে।