বিমানবন্দরের কার্গো জট নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সকল সেবা কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সংকট ও এর সমাধান নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের যৌথ সভায় সরকারের দুই মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এই নির্দেশনা প্রদান করেন। শুক্রবার ও শনিবার কার্যক্রম সীমিত থাকার কারণে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ কমছে না উল্লেখ করে এই সংকট দ্রুত দূর করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ এবং নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার বিষয়ক সমস্যা সমাধানকল্পে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিমানবন্দর কোনো স্টোরেজ বা গুদামজাতকরণের স্থান নয়, এটি পণ্য আগমন ও বহির্গমনের ট্রানজিট পয়েন্ট। দীর্ঘ সময় কার্গো বিমানবন্দরে অবস্থান করায় তীব্র জটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্য বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপদ ও আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধাসহ একটি পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার পাশাপাশি আগামী ১০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পৃথক পণ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন যে পরিমাণ কার্গো আসছে, প্রায় সমপরিমাণ পণ্য খালাস হলেও আগের জমে থাকা জট কমানো যাচ্ছে না। সমস্যা সমাধানে আগামী সপ্তাহে তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, কার্গো জটের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগামী সাতদিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, বিমানবন্দরে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত কার্গো জট কমিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্গোর চাপ কমানোর তাগিদ দেন তিনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, কার্গো অপারেটর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, কার্গো ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ ও দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।