রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লেটে ও বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপির মধ্যে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, মানবাধিকার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে ফরাসি দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যাটাচি এমিলি পালাউয়ান এবং বিরোধীদলীয় নেতার শীর্ষস্থানীয় কূটনৈতিক উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে উভয় পক্ষই দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন। এ সময় বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক টেকসইকরণ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। দেশের সুশাসন ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সংলাপে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে ফরাসি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে দুর্নীতি নিরসন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও আইনি সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।
বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও সামগ্রিক উন্নয়নে ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় এই সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত রাখার জন্য ফ্রান্স সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনার মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে ঢাকা ও প্যারিসের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠককালে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রধান বিরোধী শক্তির সাথে শীর্ষ পশ্চিমা শক্তিগুলোর এই ধরনের সংলাপ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক জাতীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।