রাজনীতি ডেস্ক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় দলের জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মান্নানের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবার (২৬ জুন) দেশের সব জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও রাঙামাটিতে দলীয় নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকার বিক্ষোভ মিছিলটি শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকায় আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ইসলামী আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম এবং অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এতে বক্তব্য রাখবেন। দেশের অন্যান্য জেলা ও মহানগরেও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে অনুরূপ কর্মসূচি একযোগে পালিত হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে মুফতি ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। গত ২০ জুন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় মামলাটি দায়ের করেন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। মামলা দায়েরের পর থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই মামলাটিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক হিসেবে দাবি করা হয়েছে। গত বুধবারের (২৪ জুন) মধ্যে এই মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের প্রতি আল্টিমেটাম দিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না হওয়ায় এবং এর পাশাপাশি রাঙামাটির লংগদুতে দলীয় নেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটায় সংগঠনটি চূড়ান্তভাবে এই দেশব্যাপী রাজপথের আন্দোলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাঠপর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। বায়তুল মোকাররমসহ দেশের প্রধান প্রধান জেলা শহরে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মামলা প্রত্যাহার এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনটি আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে বলে দলীয় সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে।