জাতীয় ডেস্ক
পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার নানামুখী উদ্যোগের অংশ হিসেবে কঠিন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, ঢাকার আমিন বাজারে এই লক্ষ্য অর্জনে একটি আধুনিক বিদ্যুৎ প্লান্ট বাস্তবায়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে তিন বছর মেয়াদি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘টেকসই পরিবেশ ও আগামী বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। দেশের পরিবেশ খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, প্লাস্টিক দূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরাই ছিল এই সভার মূল লক্ষ্য।
আলোচনা সভায় পরিবেশমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের প্রধান অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় রাজধানীসহ সংলগ্ন এলাকাগুলোর পরিবেশ রক্ষা করা বর্তমান সময়ে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট বর্জ্য অপসারণ ও এর সঠিক ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই সংকট উত্তরণে সরকার প্রচলিত বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকার আমিন বাজারে নির্মাণাধীন বর্জ্য বিদ্যুৎ প্লান্টটি চালু হলে রাজধানীর কঠিন বর্জ্য সংকটের টেকসই সমাধান মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্লাস্টিক দূষণ রোধে সরকারের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশের উপকূলীয় ১২টি জেলার মোট ৪০টি উপজেলায় ‘সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক’ বা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধে তিন বছর মেয়াদি একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই অঞ্চলগুলোতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হবে।
বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় সরকার প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সামগ্রিক প্লাস্টিকের ব্যবহার ৫০ শতাংশ এবং এর উৎপাদন ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে আইনগত কড়াকড়ির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এবং পচনশীল বিকল্প পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কঠিন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাসের এই উদ্যোগগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পরিবেশগত সূচকে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে নদী ও সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র প্লাস্টিকের মরণফাঁদ থেকে রক্ষা পাবে। তবে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে সভায় বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।