1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আমডালা খাল চীনের সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে, তারেক রহমানের সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: রুহুল কবির রিজভী মুফতি ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে মামলা ও নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভের ডাক ঢাকায় ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সাথে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বৈঠক অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে অবহেলিত সড়ক সংস্কার করছে চসিক: মেয়র ডা. শাহাদাত লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে শতকের ভয়াবহতম জোড়া ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা বিশ্বকাপের বাজারে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা: প্রচারণায় নাইকি, বিক্রিতে এগিয়ে অ্যাডিডাস মুন্সীগঞ্জে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ১ লাখ ৯১ হাজার শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নকআউটে জার্মানি, তবে ভাবনায় রক্ষণভাগ কানাডিয়ান মিডফিল্ডারকে গুরুতর ফাউল: কাতারের মাদিবো ৫ ম্যাচে নিষিদ্ধ

মাদক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও কর্মকর্তাদের অস্ত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে মাদকের বিস্তার রোধ ও মাদক অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র প্রদানের পাশাপাশি বিচারাধীন বিপুল সংখ্যক মাদক মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান। বেসরকারি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রের সাহায্যার্থে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১৫টি পুনর্বাসন কেন্দ্রকে সরকারি অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বর্তমান মাদক পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক মাদকের ব্যাপক বিস্তারের কারণে এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বাস্তবতায় বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে এই অপরাধ পুরোপুরি দমন করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। মাদক পাচারকারী ও অপরাধী চক্রগুলো অত্যন্ত আধুনিক ও মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে কোনো ধরনের অস্ত্র নেই। ফলে মাদকবিরোধী অভিযানে গতিশীলতা ও কর্মকর্তাদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের চূড়ান্ত উদ্যোগ নিয়েছে। একটি শক্তিশালী ও যুগোপযোগী আইনি কাঠামো তৈরি করতে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, যা চলতি সংসদ অধিবেশনেই বিল আকারে উত্থাপিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন মাদক মামলার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে মন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে কেবল রাজধানী ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলা আদালতগুলোতেও রয়েছে বিপুল সংখ্যক মামলার জট। প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই বিপুল পরিমাণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা অত্যন্ত দূরূহ। এই বিচারিক স্থবিরতা কাটাতে এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির মুখোমুখি করতে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পাশাপাশি প্রচলিত আদালতগুলোতেও যথানিয়মে মাদক মামলার বিচার কাজ অব্যাহত থাকবে।

মাদকাসক্তদের সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনা এবং চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের গৃহীত মেগা প্রকল্পের বিবরণ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে চলতি অর্থবছরে ৭৩টি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রকে মোট এক কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার অংশ হিসেবে আজ ১৫টি কেন্দ্রের মাঝে চেক বিতরণ করা হলো। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইন সংশোধন, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন সফলভাবে সম্পন্ন হলে দেশে মাদক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026