শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক
চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন শেষে দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় আজ বুধবার বেলা ১টা ৫৬ মিনিটে তিনি দালিয়ান থেকে একটি বুলেট ট্রেনে করে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তাঁর এই রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে এটিই তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ।
এর আগে আজ সকালে দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের মূল প্ল্যানারি সেশনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত ছিল ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ বা বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন। সম্মেলনটির সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলোইস জভিংগি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এই বিশেষ সম্মেলনে অত্যন্ত সফলভাবে অংশ নিয়েছেন এবং সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন। সম্মেলন শেষে কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্য দিয়ে দালিয়ানের শাংগ্রিলা হোটেল থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে বহনকারী মোটরশোভাযাত্রাটি স্থানীয় রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বেইজিং সফরকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। সেই বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মেলবন্ধন ঘটানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।