খেলাধূলা ডেস্ক
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দলে ফিরছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে আড়াই বছর পর সেলেসাওদের হয়ে তার মাঠে নামার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বাংলাদেশ সময় আগামী বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে গ্রুপ পর্বের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। নক-আউট পর্বে কোয়ালিফাই করার লক্ষ্য নিয়ে এই ম্যাচে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও দলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, নেইমার বর্তমানে খেলার জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত এবং চলতি সপ্তাহে দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের সাথে নিয়মিত ও নিবিড় অনুশীলন সেশনে অংশ নিয়েছেন। নেইমারের মতো একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ ফুটবলারের দলে প্রত্যাবর্তন পুরো স্কোয়াডের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং মানসিকভাবে স্বস্তিদায়ক বলে কোচ মন্তব্য করেন।
নেইমারের ম্যাচ ফিটনেস এবং তিনি মূল একাদশে থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি তার পূর্ণ সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন। কোচ জানান, নেইমার ৯০ মিনিট খেলার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত আছেন। যদি কৌশলগত কারণে তাকে শুরু থেকে খেলানো নাও হয়, তবুও ডাগআউটে তার উপস্থিতি এবং অভিজ্ঞতা দলের তরুণ ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করবে। দীর্ঘ বিরতির পর তার এই ফেরা দলের সার্বিক পারফরম্যান্সে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর মন্টভিডিওতে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এসিএল (অ্যান্টেরিওর ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট) ইনজুরির কারণে প্রায় ৯৮০ দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল তাকে। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হওয়ায় এই টুর্নামেন্টে নেইমারের ফেরা ব্রাজিল দলের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পথচলা শুরু হয়েছিল মরক্কোর বিরুদ্ধে ড্রয়ের মধ্য দিয়ে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে পরাজিত করে নক-আউটের দৌড়ে টিকে রয়েছে তারা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই ব্রাজিলের জন্য অত্যন্ত সমীকরণভিত্তিক। এই ম্যাচে ভক্তদের মাঝে তরুণ স্ট্রাইকার এনড্রিককে খেলানোর দাবি থাকলেও, নেইমারের অন্তর্ভুক্তি দলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে। একই ম্যাচে নেইমার এবং এনড্রিকের উপস্থিতি দলের রণকৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।