জাতীয় ডেস্ক
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানগণ। গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে চীনের দালিয়ান শহরে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেওয়া বিশ্বনেতাদের সম্মানে এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উক্ত নৈশভোজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। আন্তর্জাতিক এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে অন্যান্য দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে আরও অংশ নেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন সিওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম ওসোরিন উচরাল, গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিচ এবং কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকটেনভ।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই কূটনৈতিক সংযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় ভোজের মূল আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ফোরামের এই নৈশভোজের মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও উন্মুক্ত আলাপচারিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ উন্মোচিত হলো, যা ভবিষ্যতে বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
এর আগে মালয়েশিয়ায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর সফলভাবে শেষ করে গত সোমবার রাতে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দালিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সম্মেলন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক কার্যক্রমে যোগ দেন।
পরিকল্পিত সূচি অনুযায়ী, বুধবার সকালে দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিশেষ অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুরে উচ্চগতির বুলেট ট্রেনে করে তাঁর রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। বেইজিং সফরে চীনের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।