সংসদ সংবাদ ডেস্ক
বিগত ২০০৪ সাল থেকে চলতি বছরের ১৬ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ১ কোটি ৫০ লাখ ৭ হাজার ১২৯ জন বাংলাদেশি কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গমন করেছেন। তবে তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে দেশে ফেরত আসলেও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে এর কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ফলে বর্তমানে বিদেশে ঠিক কতজন বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা উল্লেখ করেন।
সংসদে উত্থাপিত জবাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানান, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ডাটাবেজে ২০০৪ সাল থেকে বিদেশগামী কর্মীদের তথ্য সংরক্ষণ শুরু হয়। সেই তথ্যানুযায়ী, গত ২২ বছরে প্রায় দেড় কোটি কর্মী বিদেশে গেছেন। কিন্তু কর্মসংস্থান শেষে দেশে ফেরত আসা কর্মীদের বিমানবন্দরকেন্দ্রিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো তথ্য ডাটাবেজে যুক্ত না থাকায় বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত প্রকৃত কর্মীর সংখ্যা নির্ণয় করা যাচ্ছে না।
এই প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকারের নেওয়া নতুন পদক্ষেপের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বিদেশ ফেরত কর্মীদের তথ্য আদান-প্রদানের নিমিত্তে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)-এর সঙ্গে বিএমইটির একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে এখন থেকে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও ডাটাবেজ হালনাগাদ করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে প্রবাসী কর্মীদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্য এখনো বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার হিসেবে বিবেচিত। অধিকাংশ প্রবাসী কর্মী বর্তমানে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে কর্মরত রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, লেবানন ও সিরিয়াসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিরাজমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ওই অঞ্চলে কর্মী প্রেরণের হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিকল্প ভাবনার ওপর জোর দিচ্ছে। আরিফুল হক চৌধুরী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান শ্রমবাজারগুলো সুসংহতকরণের পাশাপাশি নতুন ও বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং সম্প্রসারণের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী বিদেশে গেলেও তাদের ফিরে আসার সঠিক হিসাব না থাকা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায় ছিল। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাথে বিএমইটির এই সমন্বিত উদ্যোগ সফল হলে প্রবাসীদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের উপর একক নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার নতুন শ্রমবাজারগুলো দ্রুত ধরতে পারলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গতি সচল রাখা সম্ভব হবে।