1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মালয়েশিয়া সফর শেষে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর, বর্তমানে বেইজিংয়ে ঝিনাইদহে ট্রাক্টর-ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ১, চালক গুরুতর আহত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি মোতায়েন ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহারে শুল্কমুক্ত সুবিধা কার্যকরের দাবি বিটিএমএ-র ইউসিবিএল ব্যাংকের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার মামলায় আরও ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ আশুরায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি নিষিদ্ধ দলের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা নস্যাৎ জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারি প্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণের ওপর জোর

মালয়েশিয়া সফর শেষে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর, বর্তমানে বেইজিংয়ে

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ ডেস্ক

মালয়েশিয়ায় ১৮ ঘণ্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর সমাপ্ত করে গণচীন সফরে গেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর শেষে মালয়েশিয়া সরকার ও সে দেশের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে একটি বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই আনুষ্ঠানিক বার্তাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যকার বহু দশকের পুরনো সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক বন্ধনকে আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রকাশিত বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ‘আমার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং আমি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রী ড. ওয়ান আজিজা বিনতি ওয়ান ইসমাইলকে তাদের অবিশ্বাস্য উষ্ণ অভ্যর্থনা ও চমৎকার আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। মালয়েশিয়া সরকার এবং সে দেশের বন্ধুভাবাপন্ন সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে যে চমৎকার সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে অভিভূত ও সমাদৃত বোধ করছি।’

সফরকালীন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তার অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও ঐতিহ্যগত সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। এই সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক যোগসূত্র।

বার্তায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক পটভূমি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, ‘আমার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময় থেকে বহু দশক পুরনো এই দ্বিপক্ষীয় ও ভাতৃপ্রতিম সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে।’ অতীতের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকার এই সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। সফরকালে মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনি সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ব্যস্ত সূচির মধ্যেও দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাতের জন্য সময় দেওয়ায় মালয়েশিয়ার রাজার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও অত্যন্ত মূল্য দেয়। বিশেষ করে দুই দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের গভীর যোগাযোগ বা ‘পিপল-টু-পিপল কন্টাক্ট’ এই সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই নিবিড় যোগাযোগ দুই দেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং সমাজের সর্বস্তরের মধ্যে একসূত্রে আবদ্ধ করেছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি জনশক্তি দুই দেশের অর্থনীতিতেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। শ্রমবাজারের উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন এবং বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণের মতো বিষয়গুলো এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর। এই সফরের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের পর মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের এই বহুমুখী অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ব্যাপারে গভীরভাবে উন্মুখ।’

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত অথচ নিবিড় মালয়েশিয়া সফরটি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের সাফল্য। এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শ্রমবাজার সংক্রান্ত সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে আসিয়ান (ASEAN) জোটে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে মালয়েশিয়ার সমর্থন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার সফর শেষ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং বর্তমানে তিনি চীনে অবস্থান করছেন। চীনের এই সফরটিকেও বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরপর দুটি প্রধান এশীয় দেশ সফর বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026