নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের চলচ্চিত্র, অভিনয়সহ সামগ্রিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন এবং সুপ্ত মেধা বিকাশের লক্ষ্যে সরকার শিগগিরই দেশব্যাপী ‘প্রতিভার সন্ধানে’ শীর্ষক একটি বিশেষ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) যৌথভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে। মূলত তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং দক্ষ কলাকুশলীদের চিহ্নিত করে তাদের মূল ধারার চলচ্চিত্রে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএফডিসি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারের এই নতুন উদ্যোগের কথা প্রকাশ করেন। বিএফডিসি’র অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনুতোষিক ও ছুটি নগদায়নের এককালীন চেক বিতরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী চলচ্চিত্র শিল্পের আধুনিকায়ন এবং বিএফডিসি’র সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন।
দীর্ঘদিন ধরে বিএফডিসি’র আর্থিক সংকট ও অবকাঠামোগত স্থবিরতার কারণে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে যে মন্থর গতি তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার নানামুখী বাণিজ্যিক ও আধুনিকীকরণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে চলচ্চিত্র প্রযোজকদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রেক্ষাগৃহে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘ই-টিকেটিং এবং সেন্ট্রাল সার্ভার’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত সংযোজন দেশের চলচ্চিত্র ব্যবসার দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার ঘাটতি পূরণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাত বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে গ্রাহক সেবা সহজতর ও গতিশীল করতে বিএফডিসিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘বিজনেস অটোমেশন ব্যবস্থা’ চালুর প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিএফডিসি’র অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ নিশ্চিতেও নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান নীতিমালায় পেনশন সুবিধা না থাকায় দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচুইটির অর্থই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একমাত্র আর্থিক অবলম্বন। অতীতে এই পাওনা টাকা দীর্ঘ মেয়াদে বিভিন্ন কিস্তিতে পরিশোধ করা হতো, যা অবসরপ্রাপ্তদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াত। বর্তমান সরকার এই নিয়মে পরিবর্তন এনে অবসরপ্রাপ্তদের সার্বিক সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সম্পূর্ণ পাওনা এককালীন পরিশোধের ব্যবস্থা করেছে। সাময়িক তহবিল সংকট সত্ত্বেও পর্যায়ক্রমে আগামী বছরগুলোতে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনাও দ্রুততম সময়ে পরিশোধের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
চলচ্চিত্র শিল্পের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে জানা গেছে, ঢাকায় নির্মাণাধীন অত্যাধুনিক ‘বিএফডিসি কমপ্লেক্স’র কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করে এটি বাণিজ্যিক কার্যক্রমে উন্মুক্ত করা হবে। এই কমপ্লেক্সটি চালু হলে তা বিএফডিসি’র নিজস্ব আয়ের একটি স্থায়ী ও অন্যতম বড় উৎস হিসেবে গণ্য হবে। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবনের পেছনের খালি জমিতে একটি আধুনিক ‘মিনি মার্কেট’ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গাজীপুরের কবিরপুরে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ ফিল্ম সিটি’র দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কাজ শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। চলচ্চিত্রের কারিগরি মানোন্নয়নে এফডিসিতে বিশ্বমানের আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মাণযন্ত্রাদি নিশ্চিতকরণ এবং পোস্ট-প্রোডাকশন স্টুডিওগুলোকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পুনর্বিন্যাস করার কাজ চলমান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি উদ্যোগে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কার্যক্রম এবং কারিগরি আধুনিকায়ন যুগপৎভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি পূরণ হবে। এফডিসি’র সকল ভূসম্পত্তির সর্বোত্তম বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে স্বাবলম্বী ও লাভজনক সংস্থায় রূপান্তর করা সম্ভব হলে দেশের চলচ্চিত্র শিল্প পুনরায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজস্ব গৌরব পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে।