নিজস্ব প্রতিবেদক
চীনের বেইজিংয়ে সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি সফরে নতুন সফরসঙ্গী হিসেবে যোগ দিচ্ছেন সরকারের আরও দুই পূর্ণ মন্ত্রী। তারা হলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বেইজিংয়ে চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে তারা চীনের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার চায়নার একটি ফ্লাইটে দুই মন্ত্রীর বেইজিংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুই মন্ত্রীর এই যাত্রার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চলমান চীন সফরে প্রতিনিধিদলে পূর্ণ মন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়াল তিনজনে। এর আগে সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সূচি রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রীর বেইজিং সফরের ফলে দুই দেশের তথ্যপ্রযুক্তি, সাংস্কৃতিক বিনিময়, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা সংক্রান্ত বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলোতে আলোচনা আরও গতি পাবে। বিশেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে পানিসম্পদ মন্ত্রীর উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই ধাপের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে প্রথমে মালয়েশিয়া সফর করেন। সেখানে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষে গত ২২ জুন রাতে তিনি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান। সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ফোরামের বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। দালিয়ানের কর্মসূচি শেষে বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর সফরের মূল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
আগামী ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ডিজিটাল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া সফরের শেষ দিন ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি নির্ধারিত রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, নতুন দুই মন্ত্রীর বেইজিংয়ে অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। বিভিন্ন খাতের কারিগরি ও নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে এই সফর ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সফর শেষে আগামী ২৬ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদলের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।