বিশেষ প্রতিবেদক
দেশে সংগৃহীত ভিসা ও কনস্যুলার ফি বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ব্যবস্থার আওতায় স্থানীয় ভিসা প্রসেসিং এজেন্টরা অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ফি সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, তাদের বিদেশস্থ কার্যালয় বা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পাঠাতে পারবে।
আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। দেশের সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে পাঠানো এই নির্দেশনায় বলা হয়, ভিসা ও কনস্যুলার ফি বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নতুন এই নীতিমালার ফলে বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি দূতাবাসগুলোর কনস্যুলার সেবার ব্যয় ও ফি স্থানান্তর প্রক্রিয়া আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা ফি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দূতাবাস কর্তৃক নির্ধারিত হারে সংগ্রহ করতে হবে। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ লেনদেন করা যাবে না। একই সঙ্গে দূতাবাস বা তাদের অনুমোদিত ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের ইস্যুকৃত মূল ইনভয়েস সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি আবেদনকারীর কাছ থেকে সংগৃহীত ফি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও নথিপত্র ব্যাংককে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে যেকোনো সময়ে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়। এছাড়া বিদেশে অর্থ প্রেরণের পূর্বে প্রযোজ্য সব ধরনের কর ও শুল্ক যথাযথভাবে কর্তন করা হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পূর্বে ভিসা ফি বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতো। অনেক সময় স্পষ্ট নীতিমালার অভাবে এজেন্টদের ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে বেগ পেতে হতো। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সময়োপযোগী নির্দেশনার ফলে ভিসা ফি পরিশোধ ও বিদেশে প্রেরণের সামগ্রিক প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং সুশৃঙ্খল হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলে এ ধরনের লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, যা হুন্ডি বা অবৈধ পথে অর্থ পাচার রোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।