বিশেষ প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের অগ্রগতিসহ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের তথ্য এবং পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এসব তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক দলের আইনি অবস্থান এবং দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়।
উপদেষ্টা জানান, আওয়ামী লীগ নামক রাজনৈতিক সংগঠনটির আইনি ভবিষ্যৎ এবং এর কার্যক্রমের বৈধতা আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। দলটির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার যে অভিযোগ রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দলটির চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারিত হবে। তবে বর্তমানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দলটি যদি মাঠে কোনো কর্মসূচি বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার চেষ্টা করে, তবে তা আইনভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যেকোনো ধরনের নাশকতা ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে কয়েকটি স্পর্শকাতর জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের প্রসঙ্গটি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সরকার প্রধানদের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার এবং বাণিজ্যিক সুবিধা সম্প্রসারণে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে গভীর আগ্রহ ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করেছেন। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিগগিরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।