রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, নির্বাচন-উত্তর সার্বিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকট এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষই দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার, প্রধান বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজের ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন ও মানবাধিকার পরিস্থিতির ধারাবাহিক উন্নতির বিষয়ে তার দেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
একই সাথে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতি এবং এ সমস্যার টেকসই সমাধানের বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে সুইজারল্যান্ডের কার্যকর ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় সুইজারল্যান্ডের দৃঢ় সমর্থন বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন রাষ্ট্রদূত। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের বিনিয়োগের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। এর জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনৈতিক খাতে, বিশেষ করে গ্রিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডকে আরও বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেড অব পলিটিক্যাল, ইকোনমিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন অ্যাফেয়ার্স আলবের্তো জিওভানেত্তি এবং সিনিয়র পলিটিক্যাল, ইকোনমিক অ্যান্ড প্রেস অফিসার খালেদ চৌধুরী। অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নির্বাচন-উত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রধান বিরোধী শক্তির সঙ্গে বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের এ ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।