রাজধানী ডেস্ক
ঢাকা মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। সোমবার দিনব্যাপী পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদককারবারি, ছিনতাইকারী ও তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজসহ মোট ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের একাধিক টিম এই অভিযানে অংশ নেয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধের ভিত্তিতে পৃথক মামলা দায়ের ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ডিএমপির ক্রাইম ও অপারেশনস বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন স্পট থেকে অপরাধ চক্রের ৭২ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে একজন পুলিশি তালিকার শীর্ষ চাঁদাবাজ এবং অপরজন তালিকাবহির্ভূত স্থানীয় চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী সন্ত্রাসী, দস্যু, ছিনতাইকারী ও ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগে ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, মহানগরে মাদকের বিস্তার রোধে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ৩৭ জন মাদককারবারিকে।
একই সময়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক ও সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ডিবি পুলিশের অভিযানে ধৃতদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি নথি জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলার ২ জন, সংঘবদ্ধ চুরির চক্রের ২ জন এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৬ জন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয় বলে ডিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে চুরি, ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধির কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিশেষ করে আসন্ন দিনগুলোতে মহানগরের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ নাগরিকদের যাতায়াত ও জানমালের নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। অপরাধীদের অবস্থান নিশ্চিত করে ডিএমপির গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সহায়তায় এই সফল অভিযান সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, মহানগরে যে কোনো ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা, চাঁদাবাজি এবং মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। জননিরাপত্তা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এ ধরনের বিশেষ ও নিয়মিত চিরুনি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের পর আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।