ক্রীড়া প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের সহজ জয় পেয়েছে ব্রাজিল। তবে এই স্বস্তির জয়ের মাঝেও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিবিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে উইঙ্গার রাফিনহার চোট। ম্যাচের প্রথমার্ধেই বাম পায়ের পেশির টানে মাঠ ছাড়তে হয় ২৯ বছর বয়সি এই তারকা ফুটবলারকে। রাফিনহার চোটের গভীরতা বুঝতে স্ক্যান ও চিকিৎসকদের চূড়ান্ত মূল্যায়নের অপেক্ষায় রয়েছে দলটির ম্যানেজমেন্ট। তবে এর মধ্যেই ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার, যিনি চোট কাটিয়ে দ্রুতই মাঠে ফিরছেন বলে নিশ্চিত করেছে দলটির কোচিং স্টাফ।
ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণে ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করলেও ম্যাচের ৪০ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় সেলেসাওরা। মাঠের ডান প্রান্তে বল দখলের লড়াইয়ের একপর্যায়ে বাম পায়ের পেশিতে টান লাগলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাফিনহা। তাৎক্ষণিকভাবে মাঠেই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। রাফিনহার মাঠ ছাড়ার পর ব্রাজিলের আক্রমণভাগের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে, যা কোচিং স্টাফের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের ইতালীয় কোচ কার্লো আনচেলোত্তি রাফিনহার বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং চোটের তীব্রতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে চোটের গভীরতা বা এটি কতটা গুরুতর তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল পরীক্ষার পরই রাফিনহার ফেরার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। আনচেলোত্তি বলেন, রাফিনহার চোটের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। আগামীকাল তার বেশ কিছু শারীরিক পরীক্ষা ও স্ক্যান করা হবে। এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না, তবে চিকিৎসকদের প্রতিবেদনের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাফিনহার এই আকস্মিক চোটের পর দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের মধ্যেও এক ধরনের শঙ্কা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা সতীর্থের এই ইনজুরি নিয়ে নিজের চিন্তার কথা প্রকাশ করেছেন। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাকেতা বলেন, মাঠের মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ সতীর্থকে এভাবে চোট পেয়ে ছিটকে যেতে দেখা সবসময়ই কষ্টের। দলের সবাই রাফিনহার অবস্থা নিয়ে বেশ চিন্তিত। তিনি আরও যোগ করেন, রাফিনহা এই মুহূর্তে দলের অন্যতম প্রধান শক্তির উৎস। আমরা সবাই আশা করছি তার এই চোট যেন গুরুতর কিছু না হয়। তবে মূল পরীক্ষার ফলাফল না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
রাফিনহাকে নিয়ে ব্রাজিল শিবিরে যখন উদ্বেগের মেঘ, ঠিক তখনই বড় এক সুখবর এসেছে দলের প্রাণভোমরা নেইমারকে ঘিরে। কাফের ইনজুরির কারণে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুটি ম্যাচসহ সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। তবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে নেইমার এখন পুরোপুরি সুস্থতার পথে এবং মাঠে ফেরার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। কোচ কার্লো আনচেলোত্তি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নেইমার দ্রুতই দলের মূল অনুশীলনে যোগ দিচ্ছেন।
প্রধান কোচের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেইমার আগামীকাল থেকে এককভাবে হালকা অনুশীলন শুরু করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে এর পরের দিন অর্থাৎ সোমবার থেকে তিনি দলের বাকি খেলোয়াড়দের সাথে পুরোদমে কৌশলগত অনুশীলনে অংশ নেবেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেই নেইমার সম্পূর্ণ ফিট হয়ে স্কোয়াডে ফিরবেন বলে দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেছে ব্রাজিলীয় ম্যানেজমেন্ট। নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন দলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে এবং রাফিনহার অনুপস্থিতিজনিত শূন্যতা পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখলেও ব্রাজিলের আগামী ম্যাচগুলোর রণকৌশল অনেকটাই নির্ভর করছে রাফিনহার মেডিকেল রিপোর্টের ওপর। ফুটবলারদের চোটের এই উত্থান-পতনের মাঝেই আগামী বুধবার মিয়ামি স্টেডিয়ামে শক্তিশালী স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল। নকআউট পর্বের সমীকরণ এবং দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এই ম্যাচটি সেলেসাওদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নেইমারের ফেরা এবং রাফিনহার চোটের সর্বশেষ অবস্থা মিলিয়ে আগামী কয়েকদিন ব্রাজিলের মেডিকেল টিম ও কোচিং স্টাফকে বেশ ব্যস্ত সময় পার করতে হবে।