সারাদেশ ডেস্ক
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ মৌসুমের সরকারি কৃষি সহায়তার অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে রোপা আমন ধানের বীজ, রাসায়নিক সার ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে বাসাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও কৃষি খাতের উন্নয়নের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি এবং ব্যাংক ও বীমাসহ বিভিন্ন খাত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের এই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও স্থিতিশীল করার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সংস্কার কার্যক্রমের ফলে দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলো আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে এবং দেশজুড়ে স্থবির হয়ে পড়া উন্নয়ন কার্যক্রম পুনরায় গতিশীল হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রীর সহধর্মিণী বেগম নার্গিস সিদ্দিকী সরকারের চলমান কৃষি ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং প্রান্তিক পর্যায়ের উন্নয়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে কৃষি খাতের অবদান অপরিসীম উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, কৃষকদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল (সখীপুর ও বাসাইল) সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম মামুনুর রশীদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী এবং উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর। বক্তারা সরকারের এই কৃষি বান্ধব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সঠিক সময়ে সঠিক উপায়ে প্রণোদনার সামগ্রী ব্যবহারের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এই প্রণোদনা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বিতরণকৃত উন্নত মানের বীজ ও সার ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে আমন ধানের ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ফলদ ও বনজ চারা রোপণ কর্মসূচি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সুবিধাভোগী ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ, সার ও চারা তুলে দেওয়া হয়।