ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মরক্কোর কাছে ১-০ গোলে পরাজয়ের হতাশা ভুলে ব্রাজিলের বিপক্ষে পরবর্তী কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে চায় স্কটল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মরক্কোর কাছে হারের পর স্কটিশ কোচ স্টিভ ক্লার্ক পরবর্তী ম্যাচের ওপর জোর দেওয়ার কথা জানান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় মিয়ামিতে শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ড।
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছিল স্কটল্যান্ড। মরক্কোর কাছে হেরে কিছুটা ধাক্কা খেলেও নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা এখনও সমভাবে টিকিয়ে রেখেছে দলটি। তবে পরবর্তী রাউন্ডে যেতে হলে ব্রাজিলের বিপক্ষে ইতিবাচক ফলাফল প্রয়োজন স্কটিশদের, যা দলের জন্য বড় একটি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। কোচ স্টিভ ক্লার্কও সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে উন্মুখ হয়ে আছেন।
মরক্কো ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্কটল্যান্ড কোচ স্টিভ ক্লার্ক বলেন, “ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি এবং তারা কোনো দলের কাছেই হারতে পছন্দ করে না। আমাদের এখন মূল কাজ হলো খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা, দ্রুত শারীরিক ধকল কাটিয়ে ওঠা এবং পরবর্তী লড়াইয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়া। ম্যাচটি আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে, তবে আমরা লড়াই করতে প্রস্তুত।” কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করলেও দলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে গর্বিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সাথে টুর্নামেন্টে尽可能 দূর এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই কোচ।
ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ড দুটি পেনাল্টির জোরালো আবেদন করেছিল। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে জন ম্যাকগিন ও স্কট ম্যাকটোমিনে ফাউলের শিকার হয়ে পড়ে গেলে এই বিতর্ক তৈরি হয়। তবে রেফারি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর সাহায্য নিলেও পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেননি।
পেনাল্টি বিতর্ক নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ক্লার্ক একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ম্যাকগিনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি ৫০-৫০ ছিল। রেফারি চাইলে পেনাল্টি দিতে পারতেন, আবার নাও দিতে পারতেন। তবে মাঠের রেফারি যদি পেনাল্টির বাঁশি বাজাতেন, তবে ভিএআর সম্ভবত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করত না। যেহেতু রেফারি সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে দেননি, তাই এটি নিয়ে এখন আর ভেবে লাভ নেই। এটি এখন অতীত এবং আমাদের নিয়ন্ত্রণেও নেই।”
বিশ্লেষকদের মতে, হাইতির বিপক্ষে জয় স্কটল্যান্ডকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখলেও মরক্কোর রক্ষণভাগ ভাঙতে না পারা এবং ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা দলটিকে ভাবিয়ে তুলছে। অন্যদিকে ব্রাজিল গ্রুপ পর্বের অন্যতম শক্তিশালী দল হওয়ায় স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগকে আরও সুসংহত হতে হবে। মিয়ামির ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে স্কটিশদের আক্রমণভাগে কৌশলগত পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। নকআউট পর্বের সমীকরণ মিলিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে স্টিভ ক্লার্কের শিষ্যরা।