খেলাধূলা ডেস্ক
ব্রাজিলীয় ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়রের দীর্ঘমেয়াদি ইনজুরি ও ফিটনেস সংকট নিয়ে কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। মাঠের বাইরে থাকা এই ফরোয়ার্ডকে বিশ্বের প্রথম ‘হোম অফিস’ করা খেলোয়াড় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। শুক্রবার দেশটির বেলো হরিজেন্তে শহরে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেন। লুলার এই বক্তব্য ইতোমধ্যে ব্রাজিলের ক্রীড়াঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, বেলো হরিজেন্তেয় ক্যানসার চিকিৎসায় বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট লুলা। সেখানে উপস্থিত এক শিশুকে তিনি প্রশ্ন করেন, বর্তমানে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের সেরা খেলোয়াড় কে? শিশুটি তাৎক্ষণিকভাবে নেইমারের নাম উচ্চারণ করলে প্রেসিডেন্ট হাস্যকৌতুকের ছলে বলেন, “নেইমার তো খেলছেই না! সে হলো বিশ্বের প্রথম ‘হোম অফিস’ করা খেলোয়াড়, যাকে জাতীয় দলে ডাকা হয়েছে।” খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে লুলা আরও যোগ করেন, “এমন দিনও আসবে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে আমাদের জাতীয় দল বানাতে হবে। এগারোজন পেলের দল!”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লুলার এই মন্তব্যের নেপথ্যে কেবল ক্রীড়াঙ্গনের সমালোচনা নয়, বরং রাজনৈতিক বিরোধও জড়িয়ে রয়েছে। নেইমার জুনিয়র ব্রাজিলের সাবেক ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। বিগত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি বলসোনারোর পক্ষে প্রকাশ্য প্রচারণা চালিয়েছিলেন। ফলে বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুলার এই খোঁচা কেবল নেইমারের মাঠের পারফরম্যান্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এটিকে একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ফুটবল সমর্থক ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিতর্ক শুরু হয়েছে।
নেইমারের সাম্প্রতিক ইনজুরি ও ফিটনেস রেকর্ড অবশ্য প্রেসিডেন্টের এই রসিকতাকে একপ্রকার ভিত্তি জুগিয়েছে। গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে একটি ঘরোয়া ম্যাচে খেলার সময় কাফ মাসলের (পায়ের পেশি) গুরুতর চোটে পড়েন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা। এরপর থেকে তিনি পুরোপুরি মাঠের বাইরে রয়েছেন। প্রায় এক মাস ধরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া এই ফরোয়ার্ড চলমান আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও ব্রাজিলের প্রথম ও দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি, গ্যালারিতে বসে দলের খেলা দেখেছেন। গত কয়েক বছর ধরে পিএসজি, আল হিলাল এবং জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের একের পর এক ইনজুরিতে পড়া এবং দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকা নিয়ে ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তদের মধ্যেও এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় দলের প্রধান তারকার এমন দীর্ঘ অনুপস্থিতি সেলেসাওদের মাঠের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দল যখন পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন শীর্ষ খেলোয়াড়ের ফিটনেস সংকট ও তাকে ঘিরে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসা এমন রাজনৈতিক-ক্রীড়া সমালোচনা ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনকে (সিবিএফ) নতুন চাপে ফেলবে। ইনজুরি কাটিয়ে নেইমার কবে নাগাদ পূর্ণ ফিটনেসে মাঠে ফিরবেন এবং এই সমালোচনার কোনো জবাব মাঠের পারফরম্যান্সে দিতে পারবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।