নিজস্ব প্রতিবেদক
দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) রেড নোটিশের ভিত্তিতে সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) তিনি গ্রেফতার হন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের কার্যকারিতায় ইউএই ফেডারেল পুলিশ গত ১২ জুন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। গ্রেফতার পরবর্তী আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ৩০ দিন সময় পাওয়া গেলেও, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি নথিপত্র প্রস্তুত করে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইউএই সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেশে ক্ষমতার অপব্যবহার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে তার ও তার পরিবারের নামে দেশ-বিদেশে বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান মেলে, যার প্রেক্ষিতে আদালত সেসব ক্রোকের নির্দেশ দেন। আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে তিনি দেশ ত্যাগ করেছিলেন। তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় দৃষ্টান্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
একই অনুষ্ঠানে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধ প্রবণতা নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, মোহাম্মদপুর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের তৎপরতার কারণে জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতি কঠোর হস্তে দমনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মোহাম্মদপুরকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে এবং অপরাধীদের নির্মূল না করা পর্যন্ত এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক গতিশীলতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান প্রশাসন অনেক দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যার সুফল ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করেছে। একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ বাহিনী তাদের পেশাদারিত্ব ও কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের এই প্রশংসনীয় ও অনুপ্রেরণামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ এই পুরস্কার প্রদান করা হলো।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা জানান, অপরাধীদের অবস্থান যেখানেই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।