আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২ো মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত তুলা শহরের একটি আবাসিক এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিন ব্যক্তি নিহত এবং এক শিশুসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) স্থানীয় আঞ্চলিক গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়েভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আঞ্চলিক গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়েভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, গত রাতে তুলা শহরের একটি জনবহুল আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তিনি হামলায় তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। আহতদের মধ্যে এক বছর বয়সী একটি শিশু রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঘটনার পর পরই স্থানীয় জরুরি সেবা বিভাগ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে এবং রাজধানী মস্কোর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে। যুদ্ধ শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে তীব্র লড়াই সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমান কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত সামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি কেন্দ্র এবং কৌশলগত শহরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তুলা শহরের মতো রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও শিল্প হাবে এ ধরনের ড্রোন হামলা রুশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই হামলার ফলে রাশিয়ার বেসামরিক জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা দায় স্বীকার করা হয়নি। তবে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ এর আগে একাধিকবার জানিয়েছে যে, রাশিয়ার মাটিতে হামলা মূলত তাদের আত্মরক্ষা এবং মস্কোর সামরিক সক্ষমতা ও সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল করার কৌশলের অংশ।
মস্কোর নিকটবর্তী এই শহরটিতে হামলার ঘটনা চলমান সংঘাতকে আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওই অঞ্চলে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে কঠোর পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।