1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা বাস্তবায়নে বড় বাধা হতে পারে ইসরায়েল: বিশ্লেষক রস হ্যারিসন মোহাম্মদপুরে মিছিলের চেষ্টা: নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী আটক সাভারে কিশোরীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবক গ্রেফতার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিক ও একই পরিবারের চারজনসহ নিহত ১১ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধি দল চাঁদপুরে অবসর সুবিধা বোর্ডের নতুন সচিব অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেনের সংবর্ধনা হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ দুর্নীতির অভিযোগে জুরি বিচারের মুখোমুখি স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা উত্তরাঞ্চল ও সিলেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা, চার বিভাগে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস ১০০০তম মাইলফলক ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে চালকের আসনে জাপান

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে ৪০ হাজার বৃক্ষরোপণের ঘোষণা সুবর্ণচরে

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

সারাদেশ ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনাকে পরিবেশ সুরক্ষার মহৎ উদ্যোগে রূপান্তর করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থকেরা। স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে গঠিত ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচার’ সংগঠনের ব্যানারে গতকাল শনিবার বিকেলে সুবর্ণচরে একটি ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় সমর্থকদের মাঝে এক হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। একই সাথে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল চ্যাম্পিয়ন হলে দেশজুড়ে আরও ৪০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে।

শনিবার বিকেলে সুবর্ণচর উপজেলার গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এই চারা বিতরণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ডিরেক্টর মো. নুর নবী। বক্তারা ফুটবল উন্মাদনার মতো একটি বিশ্বজনীন বিষয়কে পরিবেশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত করার এই অভিনব প্রয়াসকে স্বাগত জানান।

আয়োজকেরা জানান, ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে যে অভূতপূর্ব উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়, সেটিকে ইতিবাচক খাতে প্রবাহিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। খেলাধুলার আবেগকে কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে পরিবেশ সচেতন করে তোলা এবং প্রকৃতি ও বৃক্ষের সান্নিধ্যে মানুষের মানসিক মনোবল বৃদ্ধি করাই ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচার’-এর মূল উদ্দেশ্য। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুবর্ণচর উপজেলাসহ সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলকে সবুজে সুশোভিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সমর্থকেরা।

শনিবারের কর্মসূচিতে ৫০টি ভিন্ন প্রজাতির মোট এক হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল আম, জাম, কাঁঠাল, বক্স বাদাম, শজনে, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, অর্জুন, আমলকী, ডালিম, বেল ও পরিবেশবান্ধব ঔষধি গুণসম্পন্ন নিমগাছ। সংগঠনের পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, উপস্থিত প্রত্যেক সমর্থক সর্বোচ্চ ১০টি করে চারা সংগ্রহ করতে পেরেছেন। প্রথম পর্যায়ে ন্যূনতম দুই শতাধিক নিবন্ধিত আর্জেন্টিনা সমর্থকের মধ্যে এই চারা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা নিশ্চিত করেছেন।

অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে সহযোগী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা দীর্ঘদিন ধরেই কেবল ক্রীড়া উৎসব নয়, বরং যেকোনো সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান যেমন বিয়ে, জন্মদিন কিংবা মৃত্যুবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে স্মারক বৃক্ষরোপণে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে আসছেন। বিশেষ করে স্থানীয় মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবজাতকদের পরিবারকে গত পাঁচ বছরে প্রায় দুই হাজার চারা উপহার দেওয়া হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে বৃক্ষ রোপণের উপযোগী তালিকা তৈরি করে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই তা বাস্তবায়ন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজকে ধারণ করে চন্দ্রকলির সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন, আর্জেন্টিনা যদি এবারের বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করতে পারে, তবে দেশব্যাপী তাদের সংগঠনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আরও ৪০ হাজার গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হবে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর বলে অভিহিত করেছেন। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীর সুবর্ণচর অঞ্চলটি ভৌগোলিক কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের নানাবিধ ঝুঁকির সম্মুখীন। এমন বাস্তবতায় যুবসমাজের নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত এই সবুজ বিপ্লব স্থানীয়ভাবে বনায়ন বৃদ্ধি, বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রীড়া উদ্দীপনার সাথে পরিবেশের মেলবন্ধনের এই মডেল দেশের অন্যান্য প্রান্তেও তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026