1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা বাস্তবায়নে বড় বাধা হতে পারে ইসরায়েল: বিশ্লেষক রস হ্যারিসন মোহাম্মদপুরে মিছিলের চেষ্টা: নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী আটক সাভারে কিশোরীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবক গ্রেফতার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিক ও একই পরিবারের চারজনসহ নিহত ১১ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধি দল চাঁদপুরে অবসর সুবিধা বোর্ডের নতুন সচিব অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেনের সংবর্ধনা হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ দুর্নীতির অভিযোগে জুরি বিচারের মুখোমুখি স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা উত্তরাঞ্চল ও সিলেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা, চার বিভাগে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস ১০০০তম মাইলফলক ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে চালকের আসনে জাপান

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে ৩ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা বা ৪১ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সাল শেষে এই আমানতের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা (৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ), যা এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ছিল ৮ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা বা ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ ফ্রাঁ। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রকাশিত এই পরিসংখ্যানটি সুইস ব্যাংকগুলোর সরকারি হিসাবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় একে সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিদের রাখা অপ্রদর্শিত বা ‘কালোটাকা’র প্রকৃত চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা যায় না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আমানতের এই পরিমাণ বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২১ সালে বাংলাদেশিদের মোট আমানত সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকায় (৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ) পৌঁছেছিল। পূর্ববর্তী বছরগুলোর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২২ সালে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ৮২৪ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালে তা কমে ২৬৪ কোটি টাকায় নেমে আসে। তবে ২০২৪ সালে এসে এই আমানত পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৩,২৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং ২০২৫ সালেও সেই ধারাবাহিকতায় বড় প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।

প্রতিবেদনের বিশদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সুইস ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশিদের মোট আমানতের সিংহভাগই দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সম্পদ। ২০২৫ সালে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত ৪১ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয়েছে, যা মোট জমার প্রায় ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৪ সালেও মোট আমানতে ব্যাংকগুলোর অংশ ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ ২০২৩ সালে এই হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ছিল ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত হিসাবের মাধ্যমে সুইস ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশি নাগরিকদের আমানতের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১১ দশমিক ৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমে এসেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ।

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত বৃদ্ধির এই প্রবণতাকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখছেন ব্যাংকিং খাতের পেশাজীবীরা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মূলত অধিক মুনাফা ও নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তহবিল স্থানান্তর করে থাকে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট বছরে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে আমানত বাড়ার অর্থই সেখানে অস্বাভাবিক কোনো লেনদেন হয়েছে এমনটি ভাবা সঠিক নয়। এটি ব্যাংকগুলোর নিয়মিত তারল্য ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কৌশলের একটি অংশ।

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে একসময় গ্রাহকের তথ্যের কঠোর গোপনীয়তার জন্য সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোর পরিচিতি থাকলেও, বর্তমানে সংস্থাটি অর্থ পাচার ও করফাঁকি রোধে বিশ্বব্যাপী স্বচ্ছতা নীতি জোরদার করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে চালু হয় ‘অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন’ (এএইওআই) কার্যক্রম। এই ব্যবস্থার অধীনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কর কর্তৃপক্ষ নিজেদের নাগরিকদের বিদেশি আর্থিক হিসাবের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদানপ্রদান করতে পারে। ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফটিএ) বিশ্বের ১০১টি দেশের সাথে প্রায় ৩৪ লাখ আর্থিক হিসাবের তথ্য বিনিময় করেছে।

তবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) গ্লোবাল ফোরামের ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত প্রাপ্ত হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ এখনো এই স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিনিময় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বিপরীতে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে এই তথ্য বিনিময় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক এই ব্যবস্থার সাথে যুক্ত না থাকার কারণে বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রকৃত আর্থিক সম্পদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কর কর্তৃপক্ষের জন্য এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে সর্বোচ্চ আমানত বজায় রেখেছে ভারত। দেশটির ব্যক্তি ও ব্যাংকগুলোর মোট আমানত ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যদিও এটি আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কম। ৮৩৪ দশমিক ২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ আমানত নিয়ে এই অঞ্চলে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ এবং বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে আফগানিস্তানের, যার মোট পরিমাণ ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ। সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আমানতের চিত্রে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে; যেখানে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটানের আমানত কমেছে, সেখানে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে। আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই প্রবৃদ্ধি মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় একে ঢালাওভাবে অবৈধ মূলধন পাচার হিসেবে দেখার সুযোগ কম, তবে আর্থিক খাতের পূর্ণ স্বচ্ছতার জন্য বৈশ্বিক তথ্য আদানপ্রদান প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026