আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। রবিবার অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে অংশ নিতে ইতিমধ্যে উভয় দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর মুখপাত্র লুক শ্রোডার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেছেন যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ২০ জুন ওয়াশিংটন থেকে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়ে বুর্গেনস্টকে পৌঁছেছেন। এর আগে মার্কিন দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ সেখানে পৌঁছান এবং আলোচনার কারিগরি ও কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করেন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই আলোচনার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরান বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে এবং দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা প্রশমনে একটি টেকসই উপায়ে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, মূল আলোচনার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে শনিবারই ইরানের উচ্চ পর্যায়ের আলোচক দল সুইজারল্যান্ডের জুরিখে এসে পৌঁছেছে। এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। আলোচনার উদ্দেশ্য সফল করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইতিমধ্যে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্জিত এই সমঝোতা স্মারক পূর্ণ বাস্তবায়নে ইসলামাবাদ তার কূটনৈতিক সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এছাড়া এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারও অংশ নিচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়টি। কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠেয় এই শান্তি আলোচনার প্রথম দিনের মূল এজেন্ডায় মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত নিয়ে একটি জরুরি অধিবেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসার পর এটিই হতে যাচ্ছে তাদের প্রধান এবং প্রথম আলোচ্য বিষয়। তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ায় ইসরায়েল, হিজবুল্লাহ কিংবা লেবানন সরকারের কোনো প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন না।
আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারকদের মতে, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের এই প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি বড় পরীক্ষা। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই উচ্চ পর্যায়ের সরাসরি সংলাপ কেবল দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত করবে না, বরং আঞ্চলিক সংঘাতের তীব্রতা হ্রাস ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।